আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের সমাপনী অনুষ্ঠানে ইলেকশন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ দেশের নাগরিকদের ভোটদানকে ঈদ উৎসবের মতো উদযাপন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “জাতি হিসেবে আমরা চূড়ান্তভাবে বিজয় অর্জন করেছি,” এবং এই ফলাফলকে দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
সানাউল্লাহের মতে, নির্বাচনের ফলাফল দেশের বিশ্ববাজারে মান‑সম্মান ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করবে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরেন এবং জনগণ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের ধারায় তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারির সকালকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় স্মরণীয় দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দেন যে নির্বাচন কমিশনের আইনগত শাসন ও নিরপেক্ষতার অঙ্গীকারের ফলে এই ফলাফল অর্জিত হয়েছে এবং সরকারের সহযোগিতা ও সকল অংশগ্রহণকারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানায়।
ইসি সানাউল্লাহের সঙ্গে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা সমাপনী ঘোষণার পর সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটার অংশগ্রহণের হার সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন।
ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণের হার পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা নির্দেশ করে। এছাড়া, নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী পার্টি গঠন ও সংসদীয় সংখ্যাগণনা নির্ধারিত হয়েছে, যা পরবর্তী সরকার গঠনের ভিত্তি গঠন করবে।
সানাউল্লাহের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা ফলাফলকে স্বীকৃতি প্রদান করে দেশের ঐক্য ও উন্নয়নের জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার জন্য ইসির প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়কে গুরুত্ব দেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইসির এই ধরনের ইতিবাচক মন্তব্য দেশের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষত যখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। ফলে, পরবর্তী কয়েক মাসে বাণিজ্যিক চুক্তি, অবকাঠামো প্রকল্প এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
অধিকন্তু, ইসির ঘোষণার পর সরকারী দপ্তরগুলো দ্রুত নীতি নির্ধারণের কাজ শুরু করবে, যাতে নির্বাচনের ফলাফলকে কার্যকরী পরিকল্পনায় রূপান্তর করা যায়। বিশেষ করে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্পের সূচনা প্রত্যাশিত।
ইসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে, যাতে সংসদীয় সেশন শীঘ্রই শুরু হয় এবং নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ প্রদান করা হবে এবং ন্যায্যতা বজায় রাখা হবে।
সারসংক্ষেপে, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ দেশের জাতিগত গর্ব ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে সরকার, বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজ একত্রে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য কাজ করার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে।



