দিল্লি হাই কোর্টের আদেশ অনুযায়ী, অভিনেতা রাজপাল যাদব ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় এখন পর্যন্ত ২.৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। এই অর্থ প্রদান তার আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায়ের মাধ্যমে জানানো হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী শোনানির জন্য আদালতে অপেক্ষা করা হচ্ছে।
মামলাটি ২০১০ সালে শুরু হয়, যখন যাদব তার প্রথম পরিচালনা প্রকল্প ‘আটা পাতা লাপাতা’ এর জন্য ঋণ গ্রহণ করেন। ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ে এবং পরবর্তীতে একাধিক চেক বাউন্সের অভিযোগ দায়ের হয়।
ঋণগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য ছিল চলচ্চিত্রের উৎপাদন ব্যয় মেটানো, তবে ব্যর্থতা এবং আর্থিক অপ্রতুলতার ফলে ঋণদাতাদের কাছ থেকে ধার করা টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঋণটি ৯ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যা এখন পর্যন্ত একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের কারণ হয়েছে।
রাজপাল যাদবের শেষ মুহূর্তের বেইল আবেদন হাই কোর্টে প্রত্যাখ্যানের পর, তাকে টিহার কারাগারে ছয় মাসের শাস্তি কার্যকর করা হয়। তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি টিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন এবং এরপর থেকে বিচারিক কারাবাসে রয়েছেন।
২ ফেব্রুয়ারি কোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, যাদবকে সাতটি পৃথক মামলায় প্রত্যেকটিতে ১.৩৫ কোটি টাকা জমা দিতে হবে এবং রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে ইতিমধ্যে জমা থাকা অর্থকে অভিযোগকারীদের মধ্যে ভাগ করতে হবে। এছাড়া, অক্টোবর ২০২৫-এ দুইটি ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে মোট ৭৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে, তবে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাকি রয়েছে।
আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায়ের মতে, মোট ঋণের অর্ধেকের বেশি অর্থ এখন পর্যন্ত পরিশোধিত হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, ৫ কোটি টাকার মধ্যে থেকে ২.৫ কোটি টাকা ইতিমধ্যে আদালতে জমা হয়েছে এবং বাকি অর্থের বিষয়ে আলোচনা চলমান।
উপাধ্যায় উল্লেখ করেন যে, অর্থের উৎস এবং প্রদান প্রক্রিয়া পরিবারিক বিষয় এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে জেলে গিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করতে ইচ্ছুক। তিনি বলছেন, আদালতের পরবর্তী রায়ের ভিত্তিতে বাকি অর্থের ব্যবস্থা করা হবে।
বর্তমানে যাদবের জেলখানা শর্তাবলী কঠোর, এবং তিনি মধ্য-সপ্তাহে নির্ধারিত বেইল শোনানির জন্য অপেক্ষা করছেন। শোনানিতে তার অস্থায়ী মুক্তি পাওয়া যাবে কিনা তা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
শুনানির দিন সোমবার নির্ধারিত, যেখানে বাকি ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা এবং অস্থায়ী বেইল অনুমোদনের বিষয়গুলো আলোচনা হবে। আদালত যদি বেইল অনুমোদন করে, তবে যাদবকে নির্দিষ্ট শর্তে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে।
এই মামলাটি শিল্পজগতের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ রাজপাল যাদবের ক্যারিয়ার দীর্ঘদিন ধরে কমেডি এবং সমর্থনকারী চরিত্রে পরিচিত। আর্থিক সমস্যার মুখে তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলো কীভাবে প্রভাবিত হবে তা নিয়ে শিল্পের অভ্যন্তরে নানা মতামত প্রকাশ পেয়েছে।
জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি মিশ্র, কেউ কেউ তার আর্থিক দায়িত্বের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছেন, আবার কেউ কেউ শিল্পের নৈতিক দায়িত্বের ওপর প্রশ্ন তুলছেন। তবে সব পক্ষই একমত যে, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পরই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত হবে।
মামলার পরবর্তী ধাপ এবং যাদবের আর্থিক দায়বদ্ধতার সমাধান দুটোই দেশের বিনোদন শিল্পের স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



