28 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeব্যবসানির্বাচন ছুটির প্রভাবে ঢাকার নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

নির্বাচন ছুটির প্রভাবে ঢাকার নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে ঘোষিত ছুটির দিনগুলোতে ঢাকার নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল সীমিত এবং কিছু পাইকারি আড়ত আংশিক বন্ধ থাকায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়। ফলস্বরূপ মুরগি, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির কেজির দাম ছুটির আগে তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়ে। বর্তমানে ব্রয়লার কেজি ১৭০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে, আর সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, খামার থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

পেঁয়াজের বাজারেও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। পুরোনো দেশি পেঁয়াজের দাম ১১০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে, আর নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ থাকায় ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। কিছু স্থানে কেজি ভিত্তিতে দাম প্রায় দশ টাকা পর্যন্ত বাড়ে।

সবজির দিকেও দাম বৃদ্ধি স্পষ্ট। ভোটের আগে তুলনায় প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। শিম, মুলা, পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, হাইব্রিড করলা ও মটরশুটি ১৬০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচনের দিন ও তার আগে-পরের সময়ে গাড়ির চলাচলে কঠোরতা থাকায় পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। সীমিত পরিবহন ফলে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে, যা সরাসরি কাঁচা পণ্যের মূল্যে প্রভাব ফেলেছে। কারওয়ান বাজারসহ অন্যান্য আড়তে স্বাভাবিকের তুলনায় কম পণ্যবাহী গাড়ি দেখা যায়।

ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়াও দাম বাড়ার একটি কারণ। বিক্রি কম হওয়ায় কিছু দোকান ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা সবজি না আনার সিদ্ধান্ত নেয়, কিছু দোকান বন্ধ থাকে। বিক্রেতা এনামুল উল্লেখ করেন, সরবরাহ ও ক্রেতা দুটোই কমে যাওয়ায় দাম বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে; স্বাভাবিক সময়ের মতো ক্রেতা থাকলে দাম আরও বাড়ত।

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা ইয়াছিন জানান, আমদানি কম থাকায় শসা, মটরশুটি, ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাজারে পৌঁছাতে পারেনি। বেশির ভাগ সবজি এক থেকে দুই দিনের বেশি মজুত রাখা সম্ভব নয়; তাই সরবরাহের ঘাটতি দ্রুত দাম বাড়িয়ে দেয়।

বাজারের অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে চালু হলে পরিবহন স্বাভাবিক হবে এবং পণ্য সরবরাহ বাড়বে। তাৎক্ষণিকভাবে দাম স্থিতিশীল হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে মূল্য হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া বৃদ্ধি এবং সীমিত গাড়ি চলাচল মূল্যের ওপর চাপ বজায় রাখবে।

সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনের ছুটির প্রভাব সরাসরি নিত্যপণ্যের দামে প্রতিফলিত হয়েছে। সরবরাহের ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রেতার কমে যাওয়া একত্রে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। স্বাভাবিক পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে দাম পুনরায় স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তবে তাৎক্ষণিক রূপান্তর সময়সাপেক্ষ হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments