মেক্সিকোর দুই তরুণ সুইমার, পাউলা ও লা মেস্ত্রা, প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা ‘স্যাড গার্লজ’ (চিকাস ত্রিস্টেস) শিরোনামের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি সম্প্রতি বার্লিনে এক এক্সক্লুসিভ ক্লিপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ১৬ বছর বয়সী এই দুই বন্ধুরা মেক্সিকোর জুনিয়র প্যান আমেরিকান স্বিমিং চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিনিধিত্বের লক্ষ্যে কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
ফার্নান্দা টোভার পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি তাদের বন্ধুত্বের সীমা পরীক্ষা করে এমন এক ঘটনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এক সন্ধ্যায় একটি পার্টিতে, পাউলা তার দীর্ঘদিনের ক্রাশ ড্যানিয়েলের সঙ্গে একা থাকে, যেখানে রেগাটোনের সুর, হালকা ফ্লার্টিং এবং মদ্যপানের পরিবেশে তারা বাথরুমে প্রবেশ করে। লা মেস্ত্রা তখনই লক্ষ্য করেন যে কিছু পরিবর্তন ঘটেছে।
পরবর্তী সময়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সম্মতি ও ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তারা যা ঘটেছে তা নামকরণ করার চেষ্টা করে, কিন্তু তা তাদের জন্য বেদনাদায়ক সত্য উন্মোচন করে এবং তাদের বন্ধনের উপর চাপ সৃষ্টি করে। চলচ্চিত্রের কাহিনী এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যেখানে পাউলা ও লা মেস্ত্রা ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।
‘স্যাড গার্লজ’ টোভারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাজ, যদিও তিনি আগে ‘মাই এজ, ইউর্স’, ‘দ্য এজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘দ্য ফায়ার উইভ বিল্ট’ এবং ‘আই ওয়ান্ট টু ভায়োলেন্টলি ক্র্যাশ ইনটু দ্য উইন্ডশিল্ড অফ লাভ’ মত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নারীর দুঃখের ধারণা ও মেক্সিকোর টেলেনোভেলা সংস্কৃতির প্রভাব নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।
চিত্রনাট্য ও দিকনির্দেশনা টোভারই করেছেন, আর সিনেমাটোগ্রাফি রোজা হাদিট হের্নান্দেজের দায়িত্বে। সম্পাদনা কাজ জোসে পাব্লো এসকামিল্লা সম্পন্ন করেছেন। চলচ্চিত্রের উৎপাদন কোলেেক্টিভো কোলমেনা পরিচালনা করেছে এবং পোটেঞ্জা প্রোডুকশনস, প্রোমেনেডস ফিল্মস, মার্টিনি শট ফিল্মস ও সিটিটি টি এক্সপ & রেন্টালসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। বিশ্ব বিক্রয় আলফা ভায়োলেট সংস্থা পরিচালনা করছে।
প্রধান ভূমিকায় রোসিও গুজমান ‘লা মেস্ত্রা’ এবং দারানা আলভারেজ ‘পাউলা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অন্যান্য অভিনেতা হিসেবে তাত্সুমি মিলোরি, টোমাস গার্সিয়া-আগ্রাজ, মনিকা ডেল কারমেন, রাউল ভিলেগাস, লুসিও লেমুস, লুইসা আলমাগুয়ের, আন্দ্রেয়া কামাচো, আয়াক্স, ওস্কার লেভার, মারিও ফ্লোরেস, হেক্টর কুরি এবং ড্যানিয়েল আরানজুবিয়া চলচ্চিত্রে উপস্থিত।
ফিল্মের সংক্ষিপ্তসার অনুযায়ী, পার্টির রাতের ঘটনাটি পাউলা ও ড্যানিয়েলের মধ্যে অপ্রত্যাশিত সংযোগের সূচনা করে, যা লা মেস্ত্রার নজরে আসে এবং দুই বন্ধুর মধ্যে গোপনীয়তা ও সম্মতির প্রশ্ন উত্থাপন করে। তারা কীভাবে এই অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করবে এবং কীভাবে তাদের বন্ধুত্বকে পুনর্গঠন করবে, তা চলচ্চিত্রের মূল থিম।
‘স্যাড গার্লজ’ মেক্সিকোর তরুণ ক্রীড়াবিদদের জীবনের সঙ্গে যৌন সম্মতি ও বন্ধুত্বের জটিলতা যুক্ত করে একটি সামাজিক বার্তা প্রদান করে। টোভার উল্লেখ করেছেন যে তিনি শৈশবে নারীর দুঃখকে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখতেন এবং মেক্সিকোর টেলেনোভেলা সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে তা গভীরভাবে অনুভব করতেন। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি সেই দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনা করতে চান।
চলচ্চিত্রের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা মেক্সিকোর তরুণ শিল্পী ও ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি বাড়াবে। এছাড়া, চলচ্চিত্রের থিমটি তরুণ দর্শকদের মধ্যে সম্মতি, আত্মসম্মান ও বন্ধুত্বের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা উস্কে দিতে পারে।
‘স্যাড গার্লজ’ একটি সমসাময়িক সামাজিক সমস্যাকে ক্রীড়া ও তরুণ জীবনের পটভূমিতে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদেরকে চিন্তায় নিমজ্জিত করবে। চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই কাজটি তরুণদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হবে।
এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত সকল সৃষ্টিকর্তা ও অভিনেতা মেক্সিকোর সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া পরিবেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে একত্রিত হয়েছেন। ‘স্যাড গার্লজ’ মেক্সিকোর তরুণদের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আত্ম-অন্বেষণের একটি চিত্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
চলচ্চিত্রটি এখনই বার্লিনে প্রকাশিত ক্লিপের মাধ্যমে প্রথম দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে এবং শীঘ্রই বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে। এই কাজটি তরুণদের জীবনের বাস্তবতা ও তাদের মুখোমুখি হওয়া নৈতিক দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে, যা সমসাময়িক চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।



