বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) থাকুরগাঁয়ের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জানিয়েছেন, জাতীয় জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব শর্ত পূরণ করা হবে। তিনি এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখ করেন, পার্টির জনপ্রিয়তা অবিকল এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের ঐতিহ্য বজায় রয়েছে।
ফখরুলের মতে, বিএনপি কখনোই জনপ্রিয়তা হারায়নি; জনগণের স্বার্থে কাজ করা দল হিসেবে তারা সবসময়ই সমর্থন পেয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, বিএনপি জনগণের দল এবং তাদের ভোটের ভিত্তি দৃঢ়, যা ভবিষ্যৎ সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি জাতীয় জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে, যেখানে ৩১টি সংস্কার ধাপের বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে। ফখরুল উল্লেখ করেন, এই ধাপগুলো ইতিমধ্যে সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সনদে স্বাক্ষরিত প্রতিটি শর্ত পূরণ করা হবে। তিনি বলেন, এই সংস্কারগুলো দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের দিকে ধাবিত করবে।
ইন্টারিম সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা বিএনপির জন্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে। ফখরুল এ বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে, নতুন সরকার গঠনের সময়সীমা পার্টির কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দীর্ঘ ১৫ বছর ‘ফ্যাসিস্ট’ শাসনের ফলে জামায়াত-এ-ইসলামির উত্থান ঘটেছে, এ বিষয়টি ফখরুলের বিশ্লেষণ। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের দমন, বিরোধী দলের কার্যক্রমে বাধা এবং নির্বাচন না দেওয়ার ফলে জামায়াত-এ-ইসলামির মত উগ্র শক্তি সক্রিয় হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বর্তমান শাসনকে ‘আওয়ামী লীগ’ হিসেবে উল্লেখ করে, তাদের নীতি-নির্ধারণের ফলস্বরূপ এই উত্থান ঘটেছে বলে সমালোচনা করেন।
বিএনপি উল্লেখ করে, দেশের মানুষ ইতিমধ্যে জামায়াত-এ-ইসলামিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এই দৃষ্টিভঙ্গি পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, জনগণ স্বচ্ছ, সৎ এবং কল্যাণমূলক রাজনীতির মাধ্যমে উগ্রতাবাদী প্রবণতাকে রোধ করতে সক্ষম হবে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন অর্জন করেছে, যা তার ভোটার ভিত্তির দৃঢ়তা প্রমাণ করে। ফখরুল এই ফলাফলকে পার্টির নীতি ও কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আরও সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত শাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপি সবসময় তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে আসছে, এ কথাটি তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি যোগ করেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরোধে রাস্তায় আন্দোলনরত জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন করা হবে এবং তাদের সমর্থনে সরকার গঠন করা হবে।
সংস্কার কমিশনের কাজের মধ্যে জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত বহু ধাপ অন্তর্ভুক্ত, যা এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। ফখরুলের মতে, এই ধাপগুলো পার্টির নীতি ও কর্মপরিকল্পনার মূল ভিত্তি এবং সেগুলো দ্রুত কার্যকর করা হবে।
বিএনপি দীর্ঘদিনের নেতা, যিনি গণতন্ত্র ও অধিকার সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার মৃত্যুর সংবাদে ফখরুল গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই নেতার প্রস্থান পার্টি ও দেশের জন্য বড় ক্ষতি, তবে তার আদর্শকে সামনে রেখে কাজ চালিয়ে যাবে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফখরুলের মন্তব্যগুলো স্পষ্ট করে যে, বিএনপি জুলাই সনদের সব অঙ্গীকার পূরণে অটল থাকবে এবং দেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। তিনি শেষ করে বলেন, জনগণের সঙ্গে সংলাপ বজায় রেখে, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল শাসন নিশ্চিত করা হবে।



