চীনের ঢাকা দূতাবাস ১৩ ফেব্রুয়ারি শু্ক্রবারে একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে উষ্ণ অভিনন্দন জানায়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্বাচনের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিজয়ী দলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
বিএনপি, যা দুই দশকের পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় ফিরে এসেছে, প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে অর্ধেকেরও বেশি আসন নিশ্চিত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দলটির নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
দূতাবাসের বিবৃতিতে চীনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নির্বাচনের সফলতা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। চীন বাংলাদেশে চলমান অবকাঠামো প্রকল্প এবং অর্থনৈতিক করিডোরের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়াতে ইচ্ছুক বলে প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোরও এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য রয়েছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকার নতুন বাংলাদেশী সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, চীনের এই কূটনৈতিক সমর্থন নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সংযোগ এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তি বা সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
দূতাবাসের বক্তব্যে বলা হয়েছে, চীন বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করতে এবং নতুন সরকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। এই সহযোগিতা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সংস্কৃতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের সূচনা হতে পারে।
বিএনপি-র বিজয়ী দল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উদযাপনমূলক পরিবেশ তৈরি করেছে। তরুণ ভোটার এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে নির্বাচনের বৈধতা আরও দৃঢ় হয়েছে। নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে নতুন সরকার গঠন এবং নীতি নির্ধারণের কাজ দ্রুততরভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
চীনা দূতাবাসের এই বার্তা, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির বিশাল বিজয়ের প্রতি সরাসরি কূটনৈতিক সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, চীন-বাংলাদেশ মৈত্রীকে নতুন ইতিহাস রচনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাইবে এবং দু’দেশের সহযোগিতা আরও সমন্বিত হবে।
ভবিষ্যতে চীন এবং বাংলাদেশ অবকাঠামো, বন্দর উন্নয়ন, রেলওয়ে সংযোগ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ প্রকল্প চালু করতে পারে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং আঞ্চলিক সংযোগকে শক্তিশালী করবে।
বিএনপি-র নতুন সরকার, যা এখন পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শাসন করবে, চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়। একই সঙ্গে, অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করবে।
সংক্ষেপে, চীনের ঢাকা দূতাবাসের এই আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইঙ্গিত, নতুন সরকারের জন্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে একটি ইতিবাচক সূচনা নির্দেশ করে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এই সমর্থনের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়।



