বিএনপি ১৫০টির বেশি আসন জয়ী হওয়ায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নির্বাচনের পর সরকার গঠন করবে কোন দল, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে; তবে শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া ও শপথগ্রহণের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েছে, যা সরকার গঠনের ভিত্তি হিসেবে গণ্য হবে। এই ফলাফলগুলো এখনও সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়নি, তাই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়।
সংবিধানের ধারা ১৪৮-এ বলা হয়েছে যে নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হবে। গেজেট প্রকাশের তারিখ নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত শপথের শেষ সময়সীমা স্থির করা যায় না।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের মতে, শপথ ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে হবে না। তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি একটি ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন যে ক্ষমতা হস্তান্তর সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে এবং সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করেন, ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি পর নয়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান করা যায় যে, যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তবে নির্বাচনের ছয় দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রাথমিক ধাপ শুরু হতে পারে। শপথের সময়সীমা পূরণ হলে সংসদীয় কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় শুরু হবে।
প্রথাগতভাবে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়ে থাকেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, তবে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর স্পিকারের পদ শূন্য রয়েছে এবং ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে বন্দী। ফলে শপথগ্রহণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সংবিধানের ধারা ১৪৮ স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে শপথগ্রহণের দায়িত্ব অর্পণ করার অনুমতি দেয়। এই ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের আদেশে কোনো উচ্চপদস্থ বিচারিক বা নির্বাহী কর্মকর্তা শপথ গ্রহণের কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
শপথের সময়মতো সম্পন্ন হওয়া সরকার গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা সংসদে আত্মবিশ্বাসের ভোট, বাজেট অনুমোদন এবং নীতি বাস্তবায়নের ভিত্তি স্থাপন করে। সরকার গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত এগোলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।



