ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ২০ বছর পর সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে। পার্টি বহু নির্বাচনী জয় অর্জন করে, যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ‑৪, চট্টগ্রাম‑৭, চট্টগ্রাম‑১৩, চট্টগ্রাম‑১৬, চট্টগ্রাম‑১১ এবং চট্টগ্রাম‑১ আসনগুলো উল্লেখযোগ্য। এই জয়গুলোকে ভিত্তি করে পার্টি নেতৃত্ব সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে অগ্রসর হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী তরিক রহমান নারায়ণগঞ্জ‑৪ আসনে জয়লাভের পর পার্টি শীর্ষস্থানীয়দের কাছ থেকে অভিনন্দন পেয়েছেন। একই সময়ে চট্টগ্রাম‑৭ আসনে হুমাম কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম‑১৩ আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম বিজয়ী হিসেবে নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত হয়েছে। উল্লিখিত জয়গুলোকে পার্টি বিশ্লেষকরা দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
চট্টগ্রাম‑১৬ আসনে জয়ী দাঁড়িপাল্লার জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম‑১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম‑১ আসনে নুরুল আমিনের জয়ও পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়িয়ে তুলেছে। এই নির্বাচনী সাফল্যকে পার্টি নেতারা “সুষ্ঠু নির্বাচন” এবং “জনগণের ইচ্ছা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফলাফল গেজেটের মাধ্যমে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিএনপি জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে কিছুকে আন্তর্জাতিক নেতাদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তরিক রহমানের ঐতিহাসিক জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। এসব মন্তব্যকে পার্টি শীর্ষস্থানীয়রা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বীকৃতি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে খালেদা জিয়া, যিনি পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং বর্তমান পার্টি চেয়ারপার্সন, নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সমন্বিত মন্ত্রণালয় গঠন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে, শীর্ষস্থানীয় আলী আখতারুজ্জামান এবং মেজর জিয়াউদ্দিনের মত নেতারা পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ শীর্ষস্থানীয় শেখ হাসিনা, যিনি বহু মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকার করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকল পক্ষের সহযোগিতা আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি “জনগণের ইচ্ছা সম্মান করা হবে” এবং “গণতন্ত্রের সুষ্ঠু প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে” বলে মন্তব্য করেছেন।
বিএনপি জয়ী প্রার্থীরা নির্বাচনের পরপরই তাদের নির্বাচনী এলাকা থেকে ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে, উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। তরিক রহমান নারায়ণগঞ্জ‑৪-এ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি সহায়তা এবং যুব কর্মসংস্থান প্রকল্পের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। চট্টগ্রাম‑৭-এ হুমাম কাদের চৌধুরী স্থানীয় শিল্পখাতের উন্নয়ন এবং বন্দর অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিএনপি সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, পার্টি এখনো সংসদে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করলেও, স্বাধীন প্রতিনিধিদের সমর্থন ও জোট গঠন করে ক্ষমতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এদিকে, অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে জোটের সম্ভাবনা এবং কৌশলগত সমঝোতার বিষয়গুলোও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সংসদীয় সেশনের প্রথম দিন পর্যন্ত সরকার গঠনের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে। পার্টি নেতারা উল্লেখ করেছেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা সংক্রান্ত নথি প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
বিএনপি জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে কিছুকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাদের জয়কে “দুই দশক পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পার্টির অবস্থানকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বিএনপি সরকার গঠনের পথে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, দেশের অর্থনৈতিক নীতি, বিদেশি বিনিয়োগ, এবং সামাজিক কল্যাণের দিক থেকে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। পার্টি নেতৃত্বের মতে, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনসেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা হবে।
অবশেষে, বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের ফলাফলকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে স্বীকার করেছে এবং সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে দেশের উন্নয়নকে অগ্রসর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই নির্বাচনী ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



