অ্যাটলান্টা শহরে ওয়েমো বর্তমানে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে, যেখানে ডোরড্যাশ চালকদের কাছ থেকে স্বয়ংচালিত গাড়ির দরজা বন্ধ করার কাজ নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল দরজা খোলা থাকলে গাড়ি চলতে না পারার সমস্যাকে দ্রুত সমাধান করা। গাড়ি যদি অচল থাকে, তা রাইডের সংখ্যা কমিয়ে দেয় এবং ট্রাফিকেও বাধা সৃষ্টি করে।
ওয়েমো, গুগল (Alphabet) এর অধীনস্থ স্বয়ংচালিত গাড়ি সেবা, বর্তমানে ছয়টি শহরে রাইডার পরিবহন করছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রসারিত হওয়ার জন্য ১৬ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। এই প্রযুক্তি গাড়ি চালকের অভাব দূর করে শহুরে পরিবহনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, তবে নতুন চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে।
গাড়ির দরজা অজান্তে খোলা থাকলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়িটিকে থামিয়ে দেয়, ফলে রাইডের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। দরজা বন্ধ না হলে গাড়ি কোনো রাইড গ্রহণ করতে পারে না এবং রাস্তার ওপর অচল অবস্থায় রয়ে যায়। তাই দরজা বন্ধ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রো-টাস্ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একটি রেডিট পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন ডোরড্যাশ চালককে দরজা বন্ধ করার কাজের জন্য ছয় ডলার পঁচিশ সেন্টের অফার করা হয়েছিল। তিনি এক মাইলের কম দূরত্বে গিয়ে ওয়েমোর গাড়ির দরজা বন্ধ করে কাজ সম্পন্ন করেন, এবং কাজের নিশ্চিতকরণের পর অতিরিক্ত পাঁচ ডলার পান। এই ধরনের কাজকে “ডোর-ড্যাশ” বলা হয়েছে, যা অনলাইন মন্তব্যে হাস্যকরভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়েমো ও ডোরড্যাশ উভয়ই টেকক্রাঞ্চকে জানিয়েছে যে রেডিটের পোস্টটি বাস্তব এবং প্রকৃত সমস্যার প্রতিফলন। উভয় সংস্থা একসাথে জানিয়েছে যে, পাইলটের মাধ্যমে দরজা খোলা গাড়ি সনাক্ত হলে নিকটস্থ ডোরড্যাশ চালকদের নোটিফিকেশন পাঠানো হয়, যাতে তারা দ্রুত গাড়ির দরজা বন্ধ করে সেবা পুনরায় চালু করতে পারে।
ডোরড্যাশের সঙ্গে ওয়েমোর সহযোগিতা শুধুমাত্র দরজা বন্ধের জন্য নয়; অক্টোবর মাসে ফিনিক্সে একটি স্বয়ংচালিত ডেলিভারি সেবা চালু করা হয়েছিল, যেখানে ওয়েমোর গাড়ি ডোরড্যাশের গ্রাহকদের খাবার ও মুদি পণ্য সরবরাহ করে। এই সেবা শহরের লজিস্টিক্সে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং দু’সংস্থার পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
লস এঞ্জেলেসে ওয়েমো পূর্বে হঙ্ক (Honk) নামের টোয়িং অ্যাপের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে দরজা বন্ধের কাজ সম্পন্ন করাতেও সহায়তা পেয়েছে। হঙ্কের ব্যবহারকারীদের গাড়ির দরজা বন্ধ করার জন্য সর্বোচ্চ চব্বিশ ডলার পর্যন্ত প্রদান করা হয়। এই উদাহরণ দেখায় যে গিগ ইকোনমি কর্মীদের সঙ্গে স্বয়ংচালিত গাড়ির অপারেশনাল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
গাড়ি অচল থাকলে শুধু রাইডের সংখ্যা কমে না, বরং ট্রাফিকের প্রবাহেও বাধা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত শহুরে রাস্তায় একাধিক গাড়ি একসাথে থেমে গেলে জ্যাম বাড়তে পারে। তাই দরজা বন্ধের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা ওয়েমোর ফ্লিটের দক্ষতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
এই ধরনের মাইক্রো-টাস্কের জন্য গিগ কর্মীদের ব্যবহার ভবিষ্যতে স্বয়ংচালিত গাড়ির নেটওয়ার্ককে আরও স্থিতিশীল করতে পারে। যখন গাড়ি নিজে নিজে সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, তখন মানবিক হস্তক্ষেপের দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়। এভাবে প্রযুক্তি ও গিগ ইকোনমির সমন্বয় শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় করে তুলবে।
ওয়েমো ও ডোরড্যাশের এই যৌথ উদ্যোগ স্বয়ংচালিত গাড়ির বাস্তবিক চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সমাধান অন্যান্য শহরে প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। গাড়ির দরজা বন্ধের মতো সহজ কাজের জন্য গিগ কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি, স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



