সুসান লে অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টির প্রথম নারী নেতা হিসেবে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে এক বছরও না কাটিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি অ্যাংগাস টেলরের নেতৃত্বে পদত্যাগ করেন। লে-কে নেতৃত্বে আনতে পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকট ও ভোটের পরাজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিবর্তন ঘটেছে।
লিবারেল পার্টির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী শীর্ষে বসার মাধ্যমে লে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি করেন। তিনি দীর্ঘদিনের পুরুষ আধিপত্যের বাধা ভেঙে শীর্ষে পৌঁছেছেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে “কাঁচের চূড়া” নামে পরিচিত একটি ঘটনাকে উদাহরণ করে।
কাঁচের চূড়া এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে নারীরা বা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে সংকটের সময় নেতৃত্বে তোলা হয়, ফলে তাদের ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়ে। লে-কে এই অবস্থায় তোলা হয়েছে বলে কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, যদিও সরাসরি উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়নি।
লিবারেল পার্টি ২০২২ সালের ফেডারেল নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরাজয় ভোগ করে, যা পার্টির ভিতরে গভীর বিভাজন ও নেতৃত্বের ঘাটতি সৃষ্টি করে। লে-কে তখন শীর্ষে তোলার সিদ্ধান্তটি পার্টির পুনর্গঠন ও পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।
নেতৃত্ব গ্রহণের পর লে-কে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি পার্টির ভিন্নমত গোষ্ঠীকে একত্রিত করতে, জাতীয় পার্টি (National Party) সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে এবং ভোটারদের প্রত্যাখ্যান করা নীতি প্যাকেজকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হন।
তবে লে-র নেতৃত্বের সময়কাল এক বছরেরও কমে শেষ হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি পার্টির অভ্যন্তরীণ ভোটে অ্যাংগাস টেলর ৩৪ ভোটে বিজয়ী হন, লে ১৭ ভোটে পরাজিত হন। টেলরকে সহায়তা করে সেনেটর জেন হিউম ডেপুটি লিডার হিসেবে নির্বাচিত হন।
লে-র সমর্থকরা দাবি করেন যে তাকে যথাযথ সুযোগ না দিয়ে দ্রুত পদচ্যুতি ঘটানো হয়েছে এবং লিঙ্গগত বৈষম্য এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। তারা উল্লেখ করেন যে লে-কে পার্টির পুনর্গঠন ও নীতি পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সমর্থন প্রদান করা হয়নি।
অন্যদিকে টেলরের সমর্থকরা লে-র পদত্যাগকে পার্টির কর্মক্ষমতা ও কৌশলগত দিক থেকে ব্যর্থতার ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করেন। তারা বলেন লে-র নেতৃত্বে পার্টি ভোটের হার বাড়াতে পারেনি এবং তাই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
লিবারেল পার্টি এবং জাতীয় পার্টির দীর্ঘস্থায়ী জোটের মধ্যে সম্পর্কও এই সময়ে টানাপোড়েনের মুখে। জাতীয় পার্টি, যা গ্রামীণ এলাকা থেকে শক্তিশালী সমর্থন পায়, তার দাবিগুলো প্রায়ই লিবারেল পার্টির নীতি ও কৌশলের সঙ্গে বিরোধে থাকে, ফলে নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা আরও ক্ষীণ হয়।
বাছাইয়ের পর লিবারেল পার্টি একটি নতুন নীতি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা ভোটারদের প্রত্যাখ্যান করা পূর্বের নীতিগুলোকে বাদ দিয়ে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি হবে। তবে এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়নে পার্টির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নারীর অবস্থান ও পার্টির ভবিষ্যৎ গঠনের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। লে-র সংক্ষিপ্ত মেয়াদ এবং টেলরের দ্রুত উত্থান পার্টির অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও লিঙ্গ সমতা নিয়ে আলোচনা তীব্র করেছে।
ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে লিবারেল পার্টি কীভাবে পুনর্গঠন করবে, নারীর নেতৃত্বের সুযোগ কতটা বাড়বে এবং টেলরের নেতৃত্বে পার্টি কীভাবে ভোটারদের পুনরায় জয় করবে, তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



