রাশিয়া সরকার মেটা মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং অ্যাপকে সম্পূর্ণভাবে ব্লক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের প্রায় দশ কোটি ব্যবহারকারী এই সেবার ওপর নির্ভরশীল, ফলে দৈনন্দিন যোগাযোগে বড় বাধা সৃষ্টি হবে।
এই পদক্ষেপের পূর্বে মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ায় নিষিদ্ধ ছিল। সেই সময় থেকে ব্যবহারকারীরা কেবল ভিপিএন (VPN) এর মাধ্যমে এই সেবাগুলোতে প্রবেশ করতে পারছিলেন।
ক্লেমবিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মেটা রুশ আইনের সঙ্গে নিজস্ব নীতি সমন্বয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া সরকার মেটার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা দেখলেও, বর্তমান অবস্থায় কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়।
পেসকভের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, মেটা যদি রুশ কর্তৃপক্ষের চাহিদা মেনে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং আইনগত শর্ত পূরণ করে, তবে নিষেধাজ্ঞা হ্রাসের দরজা খোলা যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মেটা কোনো স্পষ্ট সংকেত দেয়নি যে তারা রাশিয়া সরকারের দাবি মেনে নেবে।
প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে ব্লকিংটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের (ISP) নেটওয়ার্ক স্তরে কার্যকর করা হবে, ফলে হোয়াটসঅ্যাপের সার্ভার ও ডেটা ট্রাফিক রাশিয়ার ভিতরে পৌঁছাবে না। ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি খুলতে গিয়ে সংযোগ ত্রুটি দেখবে এবং বার্তা পাঠাতে পারবে না।
দশ কোটি মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ, পরিবারিক সমাবেশ, ব্যবসায়িক চুক্তি এবং জরুরি সেবার সঙ্গে সংযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের ওপর নির্ভরতা বিবেচনা করলে এই নিষেধাজ্ঞা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সাররা গ্রাহকদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতেন।
ডিজিটাল অধিকার সংস্থা এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলো এই সিদ্ধান্তকে তথ্যের স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক যোগাযোগের অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা রাশিয়া সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে বলছে, বৈধ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
যদিও ভিপিএন ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের কিছু অংশে প্রবেশ করা সম্ভব, তবে রাশিয়া সরকার সাম্প্রতিক সময়ে ভিপিএন সেবার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে ব্যবহারকারীদের জন্য এই বিকল্পটি ঝুঁকিপূর্ণ ও সীমিত হয়ে দাঁড়াবে।
মেটার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা উল্লেখযোগ্য ব্যবহারকারী ক্ষতি এবং বিজ্ঞাপন আয় হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ইতিমধ্যে সীমিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে কাজ করছে, আর হোয়াটসঅ্যাপের সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া কোম্পানির আঞ্চলিক কৌশলকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশেও অনুরূপ ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের নীতি অনুসরণ করে সামাজিক মিডিয়া ও মেসেজিং সেবার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের প্রবণতা দেখা যায়। রাশিয়া সরকারের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আলোচনায় ডিজিটাল সেবার নিয়ন্ত্রণ ও গ্লোবাল নেটওয়ার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলবে।
ভবিষ্যতে মেটা ও রাশিয়া সরকারের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া বা আলোচনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা হ্রাসের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে বর্তমান অবস্থায় মেটা কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত না দেখিয়ে, রাশিয়া সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
সারসংক্ষেপে, রাশিয়া সরকার হোয়াটসঅ্যাপকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল পরিবেশে বড় পরিবর্তন এনেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবহারকারী, ব্যবসা ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নতুন যোগাযোগ পদ্ধতি খুঁজে বের করতে বাধ্য হবে, আর আইনি ও নীতিগত আলোচনার দিকেও নতুন মোড় আসবে।



