বরগুনা জেলার দু’টি সংসদীয় আসনের ফলাফল শুক্রবার রাত প্রায় ৩:৩০ টায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। উভয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো তীব্র প্রতিযোগিতা চালিয়েছিল এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
বরগুনা-১ (বরগুনা সদর‑আমতলী‑তালতলী) আসনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী পীর মো. মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লার তুলনায় অগ্রসর হন। তিনি ১,৪০,২৯১ ভোট সংগ্রহ করে জয়ী ঘোষিত হন।
বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ১,৩৬,১৪৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে বসেন, ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্য মাত্র ৪,১৪৬ ভোটে সীমাবদ্ধ থাকে। উভয় প্রার্থীর ভোটের পরিমাণই উচ্চমাত্রার প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়।
বরগুনা-২ (বামনা‑বেতাগী‑পাথরঘাটা) আসনে বিএনপি কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মনি, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী সুলতান আহমদের তুলনায় অগ্রসর হন। মনি ৯০,৬৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী ঘোষিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী সুলতান আহমদ ৮৫,২৪৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করেন। দুই প্রার্থীর ভোটের পার্থক্য ৫,৩৯৬ ভোটে সীমাবদ্ধ, যা উভয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা প্রকাশ করে।
বরগুনা-২ আসনে ভোটার উপস্থিতি ৫৮.৬৬ শতাংশ রেকর্ড করেছে, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় কম বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। একই সময়ে গণভোটে বরগুনা-১-এ ‘হ্যাঁ’ ভোট ১,৭৬,১৯৭ এবং ‘না’ ভোট ৮৫,৪২০ হয়েছে; বরগুনা-২-এ ‘হ্যাঁ’ ভোট ১,২০,৯৯৭ এবং ‘না’ ভোট ৫৭,৪৭৪।
ফলাফল ঘোষণার পর জয়ী পীর মো. মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ তার জয়কে ধর্মীয় নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত করে বলেন, ইসলাম ধর্মে প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব অপরিসীম এবং নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ফলাফলকে স্বীকার করে বলেন, ভোটারদের সমর্থন পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতে পার্টির নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে মনোযোগ দেবেন। তার মন্তব্যে জয়ী প্রার্থীর কাছাকাছি ফলাফলকে স্বীকার করা হয়েছে।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বিএনপি উভয়ই এই ফলাফলকে পার্টির কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। দু’টি আসনে জয়ী হওয়া দলগুলো এখন সংসদে তাদের প্রভাব বাড়াতে এবং নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে প্রস্তুত।
আসন্ন সংসদীয় সেশনে উভয় পার্টি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও জাতীয় নীতি নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি, অবকাঠামো ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের প্রত্যাশা রয়েছে।
প্রতিটি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীকও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে; হাতপাখা ও ধানের শীষ উভয়ই গ্রামীণ জনগণের পরিচিত চিহ্ন, যা ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করেছে।
সংক্ষেপে, বরগুনা-১-এ ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বরগুনা-২-এ বিএনপি জয়ী হওয়ায় দুই পার্টির জন্য স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এবং পরবর্তী সংসদীয় কার্যক্রমে এই ফলাফল প্রভাব ফেলবে।



