বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাকুরগাঁও‑১ (সদর) আসনে ২,৩৮,৮৩৬ ভোটে জয়লাভ করে, ১৭ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের পর নিজ দেশের বিজয় হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি গতকাল রাত ২:৫৬ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে পোস্টে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ১৯৭১ সালের শহীদদের স্মরণ করেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সকাল ৭:৩০ টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪:৩০ টায় শেষ হয়। প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায় বিএনপি ও তার মিত্রদল একত্রে ১৬০টির বেশি আসনে জয়লাভ করেছে। থাকুরগাঁও‑১ আসনে মির্জা ফখরুলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ১,৪১,৭১৭ ভোট পেয়েছেন।
মির্জা ফখরুলের পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সর্ব শক্তিমান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছি। দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রামের পর আজকের এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়।” তিনি ১৯৭১ সালের লাখো শহীদ, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, পাশাপাশি ইলিয়াস আলী, সুমনসহ বহু নেতা-কর্মীর স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলীয় নেতা-কর্মী ও ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে দেশের জনগণকে মির্জা ফখরুল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমার পরিবারকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ আমার পাশে থাকার জন্য।” তিনি সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতার প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানান।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল শুক্রবারের সব ধরণের বিজয় মিছিল থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পরিবর্তে, প্রতিটি এলাকায় দোয়া মাহফিলের আয়োজনের পরামর্শ দেন, যাতে বিজয়কে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করা যায়। এই নির্দেশনা পার্টির শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে লক্ষ্য রাখে।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, “দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেলো। আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারি এবং আপনাদের জন্য কাজ করতে পারি।” তিনি নির্বাচনের পর তার কর্মপরিধি বাড়বে বলে জানান, এবং নতুন সংসদে পার্টির নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেন যে বিএনপির জয় তার ভিত্তি পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং পার্টি এখন সংসদে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পারবে। তবে তারা তর্ক করেন যে সরকার ও অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের প্রয়োজন, যাতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
এই নির্বাচনী বিজয় মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি এখন সংসদে তার নির্বাচিত আসনে থেকে আইনসভার আলোচনায় অংশ নেবেন এবং সরকারের নীতি-নির্ধারণে সমালোচনামূলক ভূমিকা পালন করবেন।
বিএনপি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ইতিমধ্যে থাকুরগাঁও‑১ আসনের জয়কে পার্টির সামগ্রিক কৌশলগত সাফল্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে আরও বেশি আসনে জয়লাভের লক্ষ্যে প্রচার চালিয়ে যাবে এবং দেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সমর্থন জানাবে।
বিএনপি ও তার মিত্রদল এখন সংসদে গঠিত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকারকে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। মির্জা ফখরুলের জয় পার্টির আইনসভার উপস্থিতি বাড়িয়ে দেবে, যা নীতি-নির্ধারণে সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
অবশেষে, মির্জা ফখরুলের বিজয়কে দেশের বিভিন্ন স্তরের নাগরিক ও সংগঠনগুলো শুভেচ্ছা জানিয়েছে। তিনি সকলের কাছে আহ্বান জানান, “একসাথে কাজ করে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।” এই বার্তাটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ঐক্যবদ্ধতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতিফলন ঘটাবে।



