দিল্লা, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শ্রী আসিফ মাহমুদ কিছু নির্বাচনী এলাকার ভোটের গণনায় হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গণনা প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে এবং তা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তদন্তের দাবি করেন।
ফারিদপুরে শামা ওবায়েদ চারটি আসনে বিশাল পার্থক্যে জয়লাভ করেন, যা স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে বিরোধী দলের জন্য বড় ধাক্কা। একই সময়ে ঢাকা-১১ আসনে ভোটের ভাগ্য অনিশ্চিত রয়ে যায়; দুই প্রার্থীই অল্প পার্থক্যে সমান অবস্থানে আছেন এবং ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার জন্য অতিরিক্ত গণনা প্রয়োজন।
ঢাকা-১৫ আসনে জামাতের প্রার্থী জয়ী হন, আর লাক্সমীপুরের চারটি আসনে বিএনপি জয়লাভ করে। তবে ত্রিশটি আসনে গণভোটে ‘না’ ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা ভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিএনপি ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসকে জয়ী ঘোষণার পর জামাতের কর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠে। সংশ্লিষ্ট দলগুলো ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
রংপুরের ছয়টি আসনে জামাতের জোট জয়লাভের খবরও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বিজয়ী হন। একই সময়ে মানিকগঞ্জের দুই ও তিন নম্বর আসনে রিতা জয়ী হন, যা স্থানীয় ভোটারদের পছন্দের পরিবর্তন নির্দেশ করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয় নম্বর আসনে জোনায়েদ সাকিহের জয় এবং সিলেট-১-এ ধানের শীষ প্রতীকে বিশাল ভোটে জয়লাভের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। এই ফলাফলগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।
নির্বাচনী দায়িত্ব শেষে বাস দুর্ঘটনায় একজন আনসার সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিএনপি এবং জামাতের কিছু আসনে ‘টাফ কন্ডিশন’ (অস্থায়ী ফলাফল) ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরণের অস্থায়ী ফলাফল ভোটারদের আস্থা ক্ষয় করতে পারে।
আসিফ মাহমুদের টেম্পারিং অভিযোগের পর জামাতের হাফেজ রাশেদুল শেরিফের ঢাকা-১ আসনে জয়কে চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনা বাড়ছে। উভয় দলই আইনি পদ্ধতি ব্যবহার করে ফলাফল যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে।
বিপুল ভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ২৩,৮৫৮৩ এ পৌঁছেছে, যা গণভোটের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলো ফলাফল পুনরায় গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় পর্যায়ে পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
এই নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, বিভিন্ন দল আইনি চ্যালেঞ্জ, পুনর্গণনা এবং নির্বাচনী কমিশনের তদন্তের দাবি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ফলাফল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা বজায় থাকবে।
বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তবে বিরোধী দলগুলো দাবি করে, সরকারী হস্তক্ষেপ ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তাই স্বাধীন তদারকি প্রয়োজন।



