যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট বৃহস্পতিবার একটি প্রক্রিয়াগত ভোটে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) তহবিল বিল পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় বিলটি আটকে যায় এবং শনি রাতের মধ্যরাতের আগে তহবিলের শেষ সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে ডিএইচএসের কার্যক্রমে বাধা আসতে পারে। এই অগ্রগতি থেমে যাওয়া দুইজন আমেরিকান নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের পর ডেমোক্র্যাটদের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এ কঠোর তদারকি চাওয়ার দাবির সঙ্গে যুক্ত।
সেনেটের প্রক্রিয়াগত ভোটে নির্ধারিত থ্রেশহোল্ড পূরণ না হওয়ায় বিলটি আর্থিক বছরের শেষের আগে অনুমোদিত হতে পারেনি। ভোটের ফলাফল বিলকে স্থগিত করে, ফলে শনি রাতের মধ্যরাতের আগে ডিএইচএসের বাজেট ঘাটতি পূরণ না হলে কিছু এজেন্সি অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ডেমোক্র্যাটরা আইসিই এজেন্টদের মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করা, দেহে ক্যামেরা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিং বন্ধের দাবি তুলে ধরেছে। এছাড়া তারা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে প্রবেশের আগে আদালতের ওয়ারেন্ট প্রয়োজন, এবং হাসপাতাল, স্কুল, চাইল্ডকেয়ার সেন্টার, মসজিদ, ভোটকেন্দ্র ও আদালতে ইমিগ্রেশন প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে সওয়াল করেছে।
সেনেটের সংখ্যালঘু স্পিকার চাক শুমার এই প্রস্তাবগুলোকে “সাধারণ বুদ্ধি” বলে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা অরাজকতার জন্য কোনো ফাঁকা চেক সমর্থন করবে না। শুমার উল্লেখ করেন, সপ্তাহের পর সপ্তাহে স্থানীয় ও শেরিফদের দ্বারা অনুসরণ করা এই ধরনের সংস্কারগুলো এখন জাতীয় পর্যায়ে আনতে চাওয়া হচ্ছে।
আইসিই-র কার্যক্রমে তহবিলের ঘাটতি তাত্ক্ষণিকভাবে বড় প্রভাব ফেলবে না বলে অনুমান করা হচ্ছে, কারণ গত বছর ডেমোক্র্যাট-ডেমোক্র্যাটের সমর্থিত আইন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক নির্বাসন নীতির জন্য বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিল। এই পূর্বের আর্থিক সহায়তা আইসিইকে চলমান অপারেশন চালিয়ে যেতে সক্ষম করবে।
তবে ডিএইচএসের অন্যান্য শাখা, যেমন দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া, বিমানবন্দর নিরাপত্তা ও সিভিল সুরক্ষা সংস্থা, তহবিলের ঘাটতির ফলে সেবা হ্রাসের সম্মুখীন হতে পারে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি মিনিয়াপলিসের পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য দেহ ক্যামেরা সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে এবং এই ব্যবস্থা জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তবে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন এবং ডেমোক্র্যাটের অন্যান্য চাহিদা নিয়ে আলোচনায় এখনও গুরুত্বপূর্ণ বাধা রয়ে গেছে।
প্রতিপক্ষের রক্ষণশীল দল আইসিই-র কার্যক্রমে স্থানীয় ও রাজ্য পুলিশকে সহযোগিতা বাধ্যতামূলক করার শর্ত যুক্ত করেছে। তারা দাবি করে, ফেডারেল ইমিগ্রেশন অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কার্যকরী হতে পারবে না। এই শর্তটি তহবিল চুক্তির মূল আলোচনার অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।
বিলটি এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি, এবং শনি রাতের মধ্যরাতের আগে উভয় পার্টির মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে ডিএইচএসের কার্যক্রমে শাটডাউন ঘটতে পারে। উভয় দিকের নেতারা শেষ মুহূর্তে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে সময়সীমা নিকটে আসায় চাপ বাড়ছে।
এই অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। ডেমোক্র্যাটরা ইমিগ্রেশন নীতি কঠোর করার মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে, আর রিপাবলিকানরা স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল সংস্থার সমন্বয় বজায় রাখতে চায়। শাটডাউন এড়াতে উভয় পার্টির সমঝোতা কতটা সম্ভব হবে, তা আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করবে।



