বাংলাদেশ জামাত‑ই‑ইসলামি সহকারী সচিব জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশনের আগারগাঁও অফিসে উপস্থিত হয়ে দাবি করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কিছু কর্মকর্তার ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ঘটছে। তিনি জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৫টায় গণনা শুরু হওয়ার পর এখন প্রায় রাত ৪টায়ও ফলাফল প্রকাশে অস্বাভাবিক দেরি দেখা যাচ্ছে।
জুবায়ের মতে, জামাতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ প্রধান হিসেবে তিনি ও তার দলের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত ফলাফল শীট জমা দিয়েছেন, যেখানে ফলাফল রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঘোষিত হওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট শীটগুলো এখনও প্রকাশিত হয়নি এবং কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ধারা‑১৭ (ঢাকা‑১৭) নির্বাচনী এলাকায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষরিত শীটে অতিরিক্ত লিখন করে ভোটের সংখ্যা পরিবর্তন করেছেন। জুবায়ের দাবি, কমপক্ষে আটটি শীটে ওভাররাইট করা হয়েছে এবং প্রায় ৫,০০০ ভোট কমিয়ে কোনো এক দলকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে জামাতের এজেন্টদের আপত্তি জানাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা‑১৫ (ধারা‑১৫) ক্ষেত্রেও একই রকম বিলম্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই এলাকায় ১,৩০০টি ভোটকেন্দ্রের মাধ্যমে ৩ লক্ষের বেশি ভোটার রয়েছে, তবুও ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি, যদিও বড় বড় নির্বাচনী এলাকায় ফলাফল দ্রুত ঘোষিত হয়েছে। জুবায়ের মতে, এই দেরি এক দলকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, একাদশ পার্টি জোটের প্রার্থীদের ফলাফলও একইভাবে দেরি হচ্ছে এবং এই ধরনের কনস্পিরেসি দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। জুবায়ের বক্তব্যে তিনি জানান, জামাত এই ধরনের আচরণকে ‘অধিকারবাদী’ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জনগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি; কর্মকর্তারা তৎক্ষণাৎ যোগাযোগের জন্য উপলব্ধ ছিলেন না।
জুবায়ের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন। যদি ফলাফল ঘোষণায় সত্যিই পক্ষপাতদুষ্টতা থাকে, তবে তা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুন্ন করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।
জামাতের নেতৃত্বের মতে, যদি এই ধরণের অনিয়ম অব্যাহত থাকে, তবে তারা আইনগত ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসাধারণের প্রতিবাদ সংগঠিত করার পরিকল্পনা করছে। এদিকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলও ফলাফল ঘোষণার স্বচ্ছতা ও সময়মতো প্রকাশের দাবি জানিয়ে উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হল সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ফলাফল প্রকাশে কোনো পক্ষপাত না রাখা। তবে জুবায়ের অভিযোগে দেখা যাচ্ছে, কিছু এলাকায় ফলাফল প্রকাশে অস্বাভাবিক দেরি এবং ভোটের সংখ্যা পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলও ফলাফল ঘোষণার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে নির্বাচন কমিশনকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগ করতে হবে।
অবশেষে, জামাতের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়তে পারে, এবং নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি ও বৈধতা নিয়ে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সকল পক্ষের জন্য জরুরি বিষয় হল, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা, যাতে জনগণের বিশ্বাস বজায় থাকে।



