গত রাতে আর্সেনাল ও ব্রেন্টফোর্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচটি ১-১ সমতার সঙ্গে শেষ হয়েছে। দু’দলই শূন্য থেকে শুরু করে একে অপরের গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জয় নিশ্চিত করতে পারেনি। এই ফলাফল আর্সেনালের ম্যানচেস্টার সিটির ওপরের ছয় পয়েন্টের সুবিধা চার পয়েন্টে কমিয়ে দেয়, এবং লিগের শীর্ষে তাদের অবস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলে।
প্রথমার্ধে পশ্চিম লন্ডনের ঘরে ননি মাদুয়ের হেডার দিয়ে ব্রেন্টফোর্ড প্রথম গোলের স্বাদ পায়। গোলটি গোলপোস্টের কাছাকাছি থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আর্সেনালের রক্ষাকে অপ্রস্তুত করে দেয়। এই মুহূর্তে আর্সেনালের খেলোয়াড়রা গোলের পরিণতি রোধে তৎপর হলেও তারা গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ থাকে।
দশ মিনিটের মধ্যে আর্সেনাল সমান করতে সক্ষম হয়। মাইকেল কায়োডের দীর্ঘ থ্রো থেকে কীন লুইস‑পটার হেডার দিয়ে গোলের জাল ভেদ করে স্কোর সমান করে। এই গোলটি ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে এবং উভয় দলে জয় অর্জনের ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে।
দু’দলই পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে, তবে শেষ পর্যন্ত গোলের রূপ নিতে পারে না। আর্সেনাল উইলিয়াম স্যালিবা এবং কাই হাভার্টজকে অসুস্থতা ও আঘাতের কারণে বাদ দিতে বাধ্য হয়, ফলে তাদের আক্রমণাত্মক বিকল্প সীমিত থাকে। ব্রেন্টফোর্ডের দিকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শট রোধ করা হয়, ফলে ম্যাচটি উভয় দিকের জন্যই হতাশার সমাপ্তি পায়।
ম্যাচের পর আর্সেনালের কোচ মিকেল আর্টেটা স্বীকার করেন যে দলটি সেট‑পিসের বিশৃঙ্খলায় যথেষ্ট কঠোরতা দেখাতে পারেনি। তিনি বলেন, “যদি এখানে জিততে চান, দু’বক্সেই কঠোর হতে হবে, আর আজ আমরা তা করতে পারিনি।” আর্টেটা আরও উল্লেখ করেন যে ব্রেন্টফোর্ডের সেট‑পিসের গোলের চারপাশের বিশৃঙ্খলা রক্ষা করা খুবই কঠিন।
লিডের ব্যবধান কমে যাওয়া নিয়ে আর্টেটা বললেন, দলটি প্রতিটি ম্যাচ জিততে প্রস্তুত থাকবে এবং শুধুমাত্র নিজের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিয়ে লিগের শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখবে। তিনি যোগ করেন, “আমরা মে পর্যন্ত এই মনোভাব বজায় রাখব, ম্যানচেস্টার সিটির আগে হই বা পরে, আমাদের কাজ একই থাকবে।” এই মন্তব্যগুলো দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আর্সেনালের ইংরেজ ফরোয়ার্ড এবেরেচি ইজে প্রথম প্রিমিয়ার লীগ স্টার্টে অর্ধেক সময়ে পরিবর্তন করা হয়। আর্টেটা উল্লেখ করেন, ইজে গ্রীষ্মে ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে আসার পর এখনও নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সময় নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “নতুন ক্লাবে স্থানান্তর সহজ নয়, বিশেষ করে যখন বলটি মাটিতে না থেকে বারবার উঁচুতে থাকে, তখন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের জন্য কাজ করা কঠিন হয়ে যায়।”
ব্রেন্টফোর্ডের ম্যানেজার কীথ অ্যান্ড্রুয়েজ গ্যাব্রিয়েল মাগালহেসের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না দেখানোর বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, রেফারির সিদ্ধান্তে ত্রুটি ছিল এবং সেট‑পিসের সময় মাগালহেসের আচরণকে শাস্তি না দেওয়া অন্যায়। এই মতামত ম্যাচের পরের বিশ্লেষণে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, দু’দলই ১২টি ম্যাচ বাকি থাকা সত্ত্বেও আর্সেনালের লিড মাত্র চার পয়েন্টে কমে গেছে। দলটি এখন ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি, এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট সংগ্রহের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলবে।



