রিভিয়ান ২০২৫ আর্থিক বছরে মোট আয় ৮% বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা পূর্ব বছরের ৪.৯৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। কোম্পানিটি মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা ও বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত, তবে এই বছর সফটওয়্যার ও সেবা বিভাগই আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই ফলাফল বৃহস্পতিবারের আয় ঘোষণায় প্রকাশিত হয়।
অটোমোটিভ সেক্টরের আয় ১৫% হ্রাস পেয়ে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। হ্রাসের প্রধান কারণ ছিল নিয়ন্ত্রক ক্রেডিট বিক্রয়ের ১৩৪ মিলিয়ন ডলারের পতন এবং গাড়ি ডেলিভারির পরিমাণ কমে যাওয়া, যদিও গড় বিক্রয়মূল্য বাড়ার ফলে কিছুটা ক্ষতিপূরণ হয়েছে। গড় বিক্রয়মূল্যের বৃদ্ধি কোম্পানির মূল্য নির্ধারণ কৌশলকে সমর্থন করেছে, তবে মোট গাড়ি বিক্রয় সংখ্যা হ্রাসের প্রভাব অতিক্রম করতে পারেনি।
সফটওয়্যার ও সেবা থেকে অর্জিত আয় ৩ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১.৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রিভিয়ান উল্লেখ করেছে যে এই বৃদ্ধির বেশিরভাগই ভল্কসওয়াগেন গ্রুপের সঙ্গে গঠিত প্রযুক্তি যৌথ উদ্যোগের ফল। এই অংশের আয় বৃদ্ধি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পার্টনারশিপের সাফল্যকে নির্দেশ করে এবং ভবিষ্যতে সফটওয়্যার-ভিত্তিক মডেলকে শক্তিশালী করবে।
সেবা অংশে গাড়ি মেরামত, ট্রেড-ইন এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত, তবে রিভিয়ান এই সেবা আয়কে পৃথকভাবে প্রকাশ করেনি। আয়ের বেশিরভাগই সফটওয়্যার বিক্রয় থেকে এসেছে, বিশেষত ভল্কসওয়াগেনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সরবরাহিত প্রযুক্তি প্যাকেজ থেকে। এই প্যাকেজে বিদ্যমান বৈদ্যুতিক আর্কিটেকচার এবং সফটওয়্যার স্ট্যাকের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত, যা ভল্কসওয়াগেনের ইলেকট্রিক ভেহিকল প্রকল্পকে সমর্থন করে।
২০২৪ সালে রিভিয়ান ও ভল্কসওয়াগেন একটি সর্বোচ্চ ৫.৮ বিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি যৌথ উদ্যোগ শুরু করে। এই চুক্তি মাইলস্টোন ভিত্তিক, এবং ২০২৫ সালে রিভিয়ান নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করে ১ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট পায়। মাইলস্টোন অর্জনের ফলে শেয়ার বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ কোম্পানির নগদ প্রবাহকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী রিভিয়ান ভল্কসওয়াগেনকে তার বিদ্যমান বৈদ্যুতিক সিস্টেম ও সফটওয়্যার প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। ২০২৪ সালে কোম্পানি ১ বিলিয়ন ডলারের কনভার্টিবল নোট পায়, এবং জুলাই ২০২৫-এ অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলার গ্রহণ করে। এই দুইটি তহবিলের মাধ্যমে রিভিয়ান গবেষণা ও উন্নয়ন, পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ চালিয়ে যাবে।
ভল্কসওয়াগেন থেকে ২০২৭ পর্যন্ত ধারাবাহিক পেমেন্টের প্রত্যাশা রয়েছে, যা রিভিয়ানের আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রিভিয়ান ২০২৬ সালে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার মূলধন পাবার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার শীতকালীন পরীক্ষার সফল সমাপ্তির শর্তে এবং বাকি ১ বিলিয়ন ডলার অ-দায়বদ্ধ ঋণ হিসেবে অক্টোবর মাসে প্রাপ্ত হবে। এই তহবিলগুলো কোম্পানির নগদ ব্যালান্সকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং সম্ভাব্য বাজার ঝুঁকি মোকাবেলায় সহায়তা করবে।
এই আর্থিক সুরক্ষা রিভিয়ানকে স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন ও সফটওয়্যার উন্নয়ন চালিয়ে যেতে সক্ষম করে, তবে অটোমোটিভ আয়ের ধারাবাহিক হ্রাস এবং নিয়ন্ত্রক ক্রেডিটের পরিবর্তন ভবিষ্যতে ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে। তাই সফটওয়্যার ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বাড়বে, এবং রিভিয়ানকে এই ক্ষেত্রগুলোতে আরও বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন চালিয়ে যেতে হবে যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।



