16 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানপৃথিবীর কেন্দ্রে হাইড্রোজেনের বিশাল সাগর থাকতে পারে

পৃথিবীর কেন্দ্রে হাইড্রোজেনের বিশাল সাগর থাকতে পারে

একটি সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে পৃথিবীর গহ্বরের কেন্দ্রীয় অংশে হাইড্রোজেনের বিশাল পরিমাণ থাকতে পারে। গবেষণাটি ভূকম্পন ডেটা এবং উচ্চচাপ পরীক্ষার ফলাফলকে একত্রিত করে গঠন করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে কোরের মধ্যে হাইড্রোজেনের পরিমাণ সমুদ্রের কয়েক দশকোটি সমান হতে পারে। এই ফলাফলটি পৃথিবীর গঠন ও চৌম্বক ক্ষেত্রের গঠন সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।

গবেষকরা ডায়মন্ড অ্যানভিল সেল ব্যবহার করে কোরের তাপমাত্রা ও চাপে হাইড্রোজেনের আচরণ পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে হাইড্রোজেন লোহার সঙ্গে মিশে লোহার হাইড্রাইড গঠন করতে পারে, যা তরল অবস্থায় উপস্থিত থাকতে পারে। এই তরল হাইড্রোজেনের স্তরকে “হাইড্রোজেনের সাগর” বলা হয়েছে, কারণ এর আয়তন সমুদ্রের বহু গুণের সমান।

ভূকম্পন বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত সাউন্ড ভেলোসিটি ডেটা এই তত্ত্বকে সমর্থন করে। কোরের মধ্যভাগে সাউন্ডের গতি প্রত্যাশিত লোহার গতি থেকে সামান্য কম দেখা যায়, যা হালকা উপাদান উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। হাইড্রোজেনের উপস্থিতি এই পার্থক্যকে ব্যাখ্যা করতে পারে, কারণ হাইড্রোজেনের ঘনত্ব লোহার তুলনায় অনেক কম।

পূর্বে বিজ্ঞানীরা কোরে লোহার সঙ্গে নিকেল, সালফার এবং কার্বন মতো হালকা উপাদান থাকতে পারে বলে অনুমান করতেন, তবে হাইড্রোজেনের পরিমাণকে এত বড়ভাবে বিবেচনা করা আগে কমই দেখা গিয়েছিল। নতুন মডেল অনুযায়ী, কোরের মোট ভরায় হাইড্রোজেনের অনুপাত পূর্বের অনুমানের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতে পারে। এই পরিবর্তন কোরের ঘনত্ব ও তাপ পরিবাহিতার হিসাবকে পুনরায় সাজাতে পারে।

হাইড্রোজেনের বিশাল সঞ্চয় কোরের তাপ উৎপাদন ও চৌম্বক ক্ষেত্রের গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। হাইড্রোজেনের তরল অবস্থা কোরের ভেতরে তাপের প্রবাহকে পরিবর্তন করতে পারে, যা পৃথিবীর ভূতাপীয় তাপমাত্রা ও ভূকম্পনের বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, চৌম্বক ক্ষেত্রের ডাইনামো প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেনের ভূমিকা এখন নতুন গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই গবেষণার ফলাফল বৈশ্বিক বিজ্ঞান সম্প্রদায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলছেন যে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ এবং গভীর ভূগর্ভীয় নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই আবিষ্কার পৃথিবীর গঠন সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে গভীর করে তুলবে, তবে সাধারণ মানুষের জন্য এটি কোনো তাত্ক্ষণিক ঝুঁকি সৃষ্টি করে না। হাইড্রোজেনের সাগর কোরের গভীরে লুকিয়ে আছে, তাই এটি সরাসরি মানব জীবনে প্রভাব ফেলে না।

অবশেষে, বিজ্ঞানীরা এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বিভিন্ন পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোরের গঠনকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আপনারা কি মনে করেন এই গবেষণা ভবিষ্যতে পৃথিবীর ভূ-প্রকৃতির ব্যাখ্যায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments