মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর এবং জামায়াত-এ-ইসলামি‑নেতৃত্বাধীন ১১‑দলীয় জোটের প্রার্থী, ধারা‑১৩ নির্বাচনী ফলাফলে ত্রুটি নির্দেশ করে আজ ভোরে ইলেকশন কমিশনের সদর দফতরে অভিযোগ পেশ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি রাত ২ টায় ধারা‑১৩ের রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুস আলির সঙ্গে প্রথমে বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং প্রায় এক ঘন্টার পর, রাত ৩ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
মামুনুল হক উল্লেখ করেন যে, ধারা‑১৩ের ভোটার পত্রে নয়জন প্রার্থীর নাম দুই কলামে পাঁচটি সারিতে সাজানো ছিল, ফলে দশটি স্লটে একটি ফাঁকা স্থান রয়ে যায়। তার নাম ও নির্বাচনী চিহ্ন প্রথম কলামের নীচের দিকে রাখা ছিল, যা দ্বিতীয় কলামের ফাঁকা বক্সের ঠিক সামনে অবস্থিত।
এই বিন্যাসের ফলে অনেক ভোটার ভুলবশত ফাঁকা বক্সে স্ট্যাম্প করে ফেলেছেন, যা পরবর্তীতে অবৈধ ভোট হিসেবে বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
মামুনুলের মতে, এই ত্রুটির ফলে ৫০টি পোলিং সেন্টারে প্রায় ১,২০০টি ভোট বাতিল হয়েছে এবং মোট ১৩৭টি পোলিং সেন্টারে প্রায় ৩,০০০টি ভোট অকার্যকর হয়েছে।
ইলেকশন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ, ‘ধানের গাঁথা’ চিহ্নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯০,৬০১ ভোট পেয়েছেন, আর মামুনুল হক ৮৬,৮৮৯ ভোটে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, পার্থক্য প্রায় ২,২০০ ভোট।
মামুনুল হক উল্লেখ করেন, ভোটের পার্থক্য এত বড় নয়, তাই তিনি ইসিকের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং পুনরায় গণনা বা সংশোধনের সম্ভাবনা দাবি করেছেন।
অধিকন্তু, তিনি ধারা‑৮-এও একই ধরনের ভোটার পত্রের বিন্যাস ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন, যেখানে বিএনপি প্রার্থী হিয়াম আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল এবং ফাঁকা বক্সে চিহ্নিত ভোটগুলো বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।
ইলেকশন কমিশন এখন মামুনুল হকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে; ফলাফলের ওপর নির্ভর করে পুনরায় গণনা, রিটেক বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা আসন্ন রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।



