নরওয়ের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থর্বজর্ন জাগল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ আনতে নরওয়ের অপরাধ তদন্ত সংস্থা Øøkriম (একোক্রিম) আজ একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করেছে। অভিযোগের মূল ভিত্তি হল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’‑এর তথ্য, যেখানে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে জাগল্যান্ডের সম্ভাব্য আর্থিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের রেকর্ড রয়েছে। এই অভিযোগের ফলে জাগল্যান্ডের কূটনৈতিক অব্যাহতি, যা তিনি ইউরোপের কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব হিসেবে পেয়েছিলেন, তা তৎক্ষণাৎ বাতিল করা হয়েছে।
Øøkriমের মতে, এপস্টেইনকে ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করার পরেও তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিরা তদন্তের আওতায় আসছে। জাগল্যান্ডের ক্ষেত্রে, ই‑মেইল রেকর্ডে দেখা যায় যে এপস্টেইনকে দণ্ডিত হওয়ার পরেও তিনি জাগল্যান্ডকে প্যারিস, নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডার পাম বিচে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সফরের পরিকল্পনা করতে সহায়তা করেন। ঐ সফরের ভ্রমণ ব্যয়, হোটেল ও অন্যান্য খরচ এপস্টেইন নিজে বহন করতেন বলে রেকর্ডে উল্লেখ আছে।
বিশেষত ২০১৪ সালে জাগল্যান্ডের পরিবার এপস্টেইনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপে ছুটির পরিকল্পনা করেছিল, তবে এপস্টেইনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার পর সফর বাতিল হয়। এই ঘটনার পরেও, নরওয়ের প্রধান সংবাদমাধ্যম NRK-র সূত্রে জানা যায় যে জাগল্যান্ড একটি ব্যাংক ঋণ পাওয়ার জন্য এপস্টেইনের আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন, যদিও ঋণটি শেষ পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার, Øøkriম নরওয়ের তিনটি সম্পত্তিতে—অসলো, রাইসর এবং রাউল্যান্ডে—তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় কোনো উল্লেখযোগ্য অবৈধ বস্তু বা নথি পাওয়া যায়নি, তবে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জাগল্যান্ডের আইনজীবী জানিয়েছেন যে তার মক্কেল কোনো অপরাধ স্বীকার করেননি এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে জড়িত নরওয়ের অন্যান্য ব্যক্তিদের নামও প্রকাশিত হয়েছে। প্রাক্তন নরওয়ের রাণী মেট-মারিট তিন বছরের যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। কূটনীতিক দম্পতি মোনা জুল ও তেরজে রড‑লারসেনের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে; অভিযোগ আছে যে এপস্টেইন তাদের সন্তানদের প্রত্যেকের জন্য ৫০ লাখ ডলার সম্বলিত উইল রেখে গেছেন।
অধিকন্তু, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) প্রধান ও নরওয়ের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্গে ব্রেন্ডের সঙ্গে এপস্টেইনের সংযোগ নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই তদন্তের লক্ষ্য হল এপস্টেইনের আর্থিক লেনদেন ও নেটওয়ার্কের মধ্যে ব্রেন্ডের ভূমিকা নির্ধারণ করা।
অধিকাংশ অভিযোগের ভিত্তি হল ই‑মেইল, ভ্রমণ রসিদ এবং আর্থিক নথি, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে প্রকাশিত হয়েছে। নরওয়ের বিচার বিভাগ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি, তবে Øøkriমের তল্লাশি ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলমান। ভবিষ্যতে, যদি প্রমাণ যথেষ্ট প্রমাণিত হয়, তবে জাগল্যান্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে।
এই মামলায় নরওয়ের আইনগত ব্যবস্থা কীভাবে এগোবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে সরকার ও বিচারিক সংস্থাগুলি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। জাগল্যান্ডের আইনজীবী ইতিমধ্যে আদালতে তার মক্কেলকে নির্দোষ ঘোষণা করার জন্য প্রমাণ উপস্থাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে, তদন্তকারী সংস্থা Øøkriমের প্রধান কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে, প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংগ্রহের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত নরওয়ের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ওপর এই তদন্ত নরওয়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। জনসাধারণের মধ্যে এই কেলেঙ্কারির প্রতি তীব্র আগ্রহ ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, এবং পরবর্তী আদালত শোনানির তারিখ ও ফলাফল নরওয়ের মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে অনুসরণ করা হবে।



