বাংলাদেশ জামায়াতে আমীর শাফিকুর রাহমান বৃহস্পতিবার রাত ১১:৪৫ টায় মঘবাজারে পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভোট গণনা শেষ হওয়া সত্ত্বেও কিছু আসনে ফলাফল এখনও ঘোষিত হয়নি।
রাহমানের মতে, তাদের দল বেশ কয়েকটি আসনে অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং গণনা সম্পন্ন হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা ফলাফল ঘোষণা না করে তা স্থগিত রেখেছেন। এই পরিস্থিতি কেন ঘটছে তা তিনি স্পষ্টভাবে জানেন না।
ফলাফল প্রকাশে এই অনিশ্চয়তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। রাহমান উল্লেখ করেন, কিছু আসনে ফলাফল না জানিয়ে রাখা নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতিতে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া তিনি ইলেকশন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখা ত্রুটির কথাও উল্লেখ করেন। এক সময় ওয়েবসাইটে বিভিন্ন দলের জয়ী আসনের সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল, তবে তা হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায় এবং পুনরায় দেখা যায় না।
এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের ফলে জামায়াতের কর্মীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। রাহমান বলেন, তাদের এজেন্টদেরকে ফলাফল জানার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা নির্বাচনের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পার্টি আশা প্রকাশ করেছে যে আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে স্পষ্টতা আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন ১৩তম পার্লামেন্টীয় নির্বাচন শেষে ফলাফল প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারণ করে রেখেছে।
রাহমানের মতে, যদি কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশে ব্যর্থ হয়, তবে জামায়াত যুক্তিসঙ্গত সীমার মধ্যে অপেক্ষা করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঢাকা-৮ মত কিছু আসনে ফলাফল এখনও স্থগিত থাকা স্বাভাবিক নয় এবং এটি সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার প্রতিফলন নয়।
এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি পার্টি ভবিষ্যতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবে, যাতে অনুপযুক্ত প্রথা অব্যাহত না থাকে।
শাফিকুর রাহমান নির্বাচনকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন, যেখানে প্রত্যেকের জয় বা পরাজয় স্বাভাবিক। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই এই বৈচিত্র্যেই নিহিত, এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন।
জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা তাদের লক্ষ্য নয়। রাহমান উল্লেখ করেন, তারা পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে চায় না এবং ইতিবাচক রাজনীতির পথে অগ্রসর হতে চায়।
অবশেষে তিনি জানান, পার্টি ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জনমতকে সঠিকভাবে অবহিত রাখবে। এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে।



