ফেডারেল জাজ রিচার্ড লিয়ন বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সেনেটর মার্ক কেলির অবসরপদে হ্রাসের আদেশকে বাধা দেন। লিয়ন রায়ে উল্লেখ করেছেন যে ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথের পদক্ষেপ সংবিধানিকভাবে অবৈধ এবং কেলির মতামত প্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন করেছে। এই রায়ের ফলে কেলির অবসর বেতনের সম্ভাব্য কাটছাঁট রোধ করা হয়েছে।
মার্ক কেলি, যিনি অবসরপ্রাপ্ত নেভি ক্যাপ্টেন এবং প্রাক্তন মহাকাশচারী, জানুয়ারি মাসে মার্কিন সরকারকে মামলা করেন এবং পিট হেগসেথকে অভিযুক্ত করেন। কেলি দাবি করেন যে হেগসেথ তার সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় অবৈধভাবে পদমর্যাদা কমাতে চেয়েছিলেন। তিনি আদালতকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান চেয়েছিলেন যাতে তার মামলা চলাকালীন হ্রাসের প্রক্রিয়া থামানো যায়।
মার্কিন সরকার যুক্তি দিয়েছিল যে কেলির বিরুদ্ধে যে কোনো শৃঙ্খলা বিষয়ক ব্যবস্থা সামরিক আদালতে করা উচিত, সিভিল আদালতে নয়। তবে লিয়ন রায়ে স্পষ্টভাবে এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন যে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদেরও সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অধিকার প্রযোজ্য। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো আদালতে এখনো অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের উপর এই সীমা আরোপ করা হয়নি।
লিয়ন রায়ে আরও জোর দিয়ে বলেন যে কেলির মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের সংবিধানিক স্বার্থ লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ধরনের পদক্ষেপ সামরিক অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে এবং সরকারকে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। রায়ে বলা হয়েছে, “আমাদের সংবিধান আমাদের অবসরপ্রাপ্ত ভেটেরানদের অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য।”
কেলির র্যাঙ্ক হ্রাসের ফলে তার অবসর বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। রেটায়ার্ড নেভি ক্যাপ্টেনের বেতন গঠন মূলত র্যাঙ্কের ওপর নির্ভরশীল, তাই র্যাঙ্ক কমলে পেনশনও কমে যায়। রায়ের মাধ্যমে এই আর্থিক ক্ষতি রোধ করা হয়েছে, যা কেলির জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত।
এই মামলার পটভূমিতে রয়েছে গত বছর ছয়জন ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা একটি ভিডিও প্রকাশ করা, যেখানে সৈন্যদের অবৈধ আদেশ অমান্য করার আহ্বান জানানো হয়। ভিডিওতে বলা হয় যে ট্রাম্প প্রশাসন সৈন্য ও গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। ফেডারেল প্রোসিকিউটররা সেই ভিডিওকে সেডিশিয়াস (বিদ্রোহমূলক) বলে অভিযোগ করে সেডিশিয়াস কনস্পিরেসি চার্জ আনা চেয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক গ্র্যান্ড জুরি সেই অভিযোগে দোষারোপ না করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে ওই ভিডিওকে “বিদ্রোহমূলক” বলে তীব্র সমালোচনা করেন এবং কেলি ও অন্যান্য আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দেন। ট্রাম্পের এই অবস্থান কেলির বিরুদ্ধে পদমর্যাদা হ্রাসের আদেশকে রাজনৈতিক প্রেরণার সঙ্গে যুক্ত করে। রায়ের ফলে ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টা সাময়িকভাবে থেমে গেছে, যা তার রাজনৈতিক লড়াইতে একটি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লিয়ন রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের মতামত প্রকাশের অধিকারকে অবমূল্যায়ন করা যায় না এবং সরকারকে তাদের সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় দিকনির্দেশনা দিতে পারে, বিশেষ করে যখন অবসরপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক মন্তব্যের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এই রায়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে কেলির মূল মামলা এখনও চলমান থাকবে এবং আদালতকে নির্ধারণ করতে হবে হেগসেথের পদক্ষেপের প্রকৃত বৈধতা। যদি কেলির মামলা সফল হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, সরকার যদি আপিল করে, তবে বিষয়টি উচ্চতর আদালতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ফেডারেল জাজের এই রায় অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের সংবিধানিক অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রভাব ফেলতে পারে।



