ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়া দিল্লিতে গতকাল অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিংয়ে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণ পেয়েও তারা কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে স্পষ্ট কোনো রাজনৈতিক কারণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তরেও মন্ত্রণালয় ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন দেশের বাইরে থেকে পর্যবেক্ষক আহ্বান জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠায়। মন্ত্রণালয় এই আমন্ত্রণটি গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথা জানায়।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধির জয়সওয়াল প্রেসব্রিফিংয়ে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “We did receive an invitation to send observers. We have not sent our observers to Bangladesh to observe the elections.” এই উক্তি থেকে বোঝা যায় যে, আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়নি।
এদিকে, বাংলাদেশে নির্বাচনের দিন প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ২০০ বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। তারা ভোটদান প্রক্রিয়া, গণভোটের স্বচ্ছতা এবং নির্বাচনী পরিবেশের ওপর নজর রাখার দায়িত্বে ছিলেন।
যখন জয়সওয়ালকে ভারতের বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রতি অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তিনি বলেন, “Please wait a little. Once the outcome comes out, we will then see how we should assess it and form our understanding of it.” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ফলাফল প্রকাশের পরই ভারতের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, ফলাফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই তারা ফলাফলের স্বচ্ছতা, প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করবে। এই ধরণের অপেক্ষা করার পদ্ধতি পূর্বে কিছু আন্তর্জাতিক নির্বাচনে দেখা গিয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া, এবং ফলাফল ঘোষণার পরই সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু করবে। ভারতের এই পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেশের মধ্যে রাজনৈতিক গতিবিধিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তটি কেবলমাত্র পর্যবেক্ষক প্রেরণের বিষয় নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত বিবেচনার অংশ হতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি যে, ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সম্ভাবনা থাকবে কি না।
মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, ফলাফল প্রকাশের পরই তারা যথাযথ বিশ্লেষণ করে নিজের নীতি নির্ধারণ করবে। এই বিশ্লেষণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ভোটার অংশগ্রহণের হার এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এখন পর্যন্ত ভারতীয় সরকার কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য না করলেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এই সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ প্রথা সাধারণ, এবং এই ক্ষেত্রে ভারতের অস্বীকৃতি কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
ভবিষ্যতে যদি ফলাফল সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়, তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্ভবত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে পারে। অন্যদিকে, যদি ফলাফল নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকে, তবে তা কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষক পাঠাতে অস্বীকারের ঘোষণা দিয়েছে, তবে ফলাফল প্রকাশের পর মূল্যায়ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই অবস্থান দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



