সাম্প্রতিক ঘোষণায় ইউটিউব অ্যাপল ভিশন প্রো ব্যবহারকারীদের জন্য নেটিভ অ্যাপ প্রকাশ করেছে, যা দুই বছরের দেরি পর হেডসেটের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এই পদক্ষেপ হেডসেটের মালিকদের জন্য ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।
অ্যাপল ভিশন প্রো প্রথমবারের মতো বাজারে আসার সময় ইউটিউব ওয়েব-ভিত্তিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছিল, ব্যবহারকারীদের সাফারিতে সাইটটি খুলে কন্টেন্ট দেখার নির্দেশ দিত। ফলে হেডসেটের পূর্ণ সম্ভাবনা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ওয়েব পদ্ধতির প্রধান সীমাবদ্ধতা ছিল অফলাইন ডাউনলোডের অনুপস্থিতি, যা ভ্রমণ বা ইন্টারনেট সংযোগহীন পরিবেশে ভিডিও উপভোগকে কঠিন করে তুলত। এছাড়া হেডসেটের বড় স্ক্রিনে স্বাভাবিক অ্যাপের সুবিধা পাওয়া যেত না।
এই ফাঁক পূরণে তৃতীয় পক্ষের জুনো নামের একটি অ্যাপ সাময়িকভাবে ভিশনওএসে উপস্থিত হয়, তবে ইউটিউবের পরিষেবার শর্ত লঙ্ঘনের কারণে তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন অফিসিয়াল নেটিভ অ্যাপের মাধ্যমে একই ফিচারগুলো নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে।
নতুন ইউটিউব অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের জন্য থিয়েটার-সাইজের ভার্চুয়াল স্ক্রিন প্রদান করে, যেখানে স্ট্যান্ডার্ড ভিডিও এবং ইউটিউব শোর্টস উভয়ই দেখা সম্ভব। বড় স্ক্রিনে কন্টেন্ট উপভোগের ফলে ইমারসিভ অভিজ্ঞতা বাড়ে।
অ্যাপের বিশেষত্বের মধ্যে রয়েছে স্পেশাল ট্যাব, যা ৩ডি, ভিআর১৮০ এবং ৩৬০-ডিগ্রি ফরম্যাটের স্পেশাল ভিডিওগুলোকে সহজে অনুসন্ধান করার সুযোগ দেয়। এই ফিচারগুলো ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টের বৈচিত্র্য বাড়ায়।
অ্যাপল ভিশন প্রোর সর্বশেষ মডেল, যা এম৫ চিপ দিয়ে চালিত, তাতে এই অ্যাপ ৮কে রেজোলিউশনের প্লেব্যাক সমর্থন করে। উচ্চ রেজোলিউশনের ভিডিও দেখা এখন আরও স্বচ্ছন্দ এবং বাস্তবসম্মত।
ইউটিউবের ভিশনওএস অ্যাপটি জেসচার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাজ করে; ব্যবহারকারী হাতের নড়াচড়া দিয়ে উইন্ডো রিসাইজ বা ভিডিও স্ক্রাব করতে পারে। এই স্বাভাবিক ইন্টারফেস হেডসেটের ব্যবহারকে সহজ করে।
লঞ্চের সময়ে ইউটিউব একা না থাকলেও, ডিজনি+, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, প্যারামাউন্ট এবং পিকক সহ বেশ কয়েকটি প্রধান স্ট্রিমিং সেবা হেডসেটের জন্য নেটিভ অ্যাপ সরবরাহ করে আসছে। ইউটিউবের এই পদক্ষেপ তাদের তালিকায় যোগ করে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন ইউটিউবের দেরি মূলত হেডসেটের বাজার গ্রহণযোগ্যতা পর্যবেক্ষণের জন্য ছিল। প্রথমে নেটিভ অভিজ্ঞতা না দিয়ে, ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও বিক্রয় পরিসংখ্যান দেখার পরই অ্যাপ চালু করা হয়।
অ্যাপল ভিশন প্রোর হাইপ প্রথম বছরে শীর্ষে পৌঁছেছিল, তবে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স-ভিত্তিক ফিচার যোগ করার পর ব্যবহারকারীর সক্রিয়তা কমে গিয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হেডসেটের বিক্রয় তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৫ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে মাত্র প্রায় ৪৫,০০০ ইউনিট নতুনভাবে শিপ করা হয়েছে, যা পূর্বের প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই প্রবণতা ইউটিউবকে নেটিভ অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর আকর্ষণ বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
ইউটিউবের নেটিভ অ্যাপের উপস্থিতি ভিশন প্রো ব্যবহারকারীদের জন্য কন্টেন্ট অ্যাক্সেসের নতুন মাত্রা খুলে দেবে, এবং ভবিষ্যতে হেডসেটের ইকোসিস্টেমে আরও সেবা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।



