বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন বৃহস্পতিবার রাত ১১:৪৫ টায় গুলশানের পার্টি নির্বাচনী অফিসে একটি সংবাদ সম্মেলন দিয়ে জানালেন, দল দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সিট জয় করে সরকার গঠন করতে প্রস্তুত।
মাহদি আমিন ভোট গণনা ও সিট-ভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে দলটির জয় নিশ্চিত হওয়ার আশায় আছেন বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। তিনি ফলাফলের অগ্রগতি দেখিয়ে দলের মনোবল বাড়িয়ে তুলেছেন।
সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান অনানুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ নির্বাচনী এলাকা থেকে জয়লাভ করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে দলটি সরকার গঠনের পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে।
মাহদি আমিন জানান, গত রাত্রি (বুধবার) থেকে বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন ধরণের জালিয়াতি, কেন্দ্র-ধরা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। তবুও জনগণের আন্তরিক সমর্থন নিয়ে দলটির প্রার্থী ‘ধানের গাঁথা’ প্রতীকধারী সিটগুলোতে বড় ব্যবধানে অগ্রগতি করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচন দিবসেও অনিয়ম, জালিয়াতি এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা ভোটারদের স্বেচ্ছা অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করেছে বলে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন।
মাহদি আমিনের মতে, কিছু নির্দিষ্ট সিটে নির্বাচনী প্রকৌশল করা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট প্রার্থীরা জয়লাভ করতে পারে। তিনি বিশেষ করে ঢাকা শহরের ঢাকা-৮, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৬ সিটে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় ইচ্ছাকৃত বিলম্বের ইঙ্গিত দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী কোড লঙ্ঘন করে প্রচার চালিয়ে বিএনপি প্রার্থীদের জয়লাভের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছে। এই প্রচারাভিযান ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাহদি আমিনের মতে, এসব কৌশল কিছু সিটে পরাজয়ের ব্যবধানকে কমিয়ে ভোটারদের স্বাভাবিক প্রবাহকে প্রভাবিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের হস্তক্ষেপের ফলে ভোটারদের স্বেচ্ছা সিদ্ধান্তে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলগুলো এই অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বর্তমানে কোনো স্পষ্ট বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।
যদি বিএনপি সত্যিই দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সিট জয় করে, তবে দলটি এককভাবে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে এবং সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক সমতা ও নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী ধাপে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে। দলগুলো ফলাফলের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য আদালতে আপিল করতে পারে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
বিএনপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি এবং বিরোধী দলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যাবে, যা পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



