আজ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এমি ও বাফটস জয়ী অভিনেত্রী জেসিকা গানিংকে ক্যাস এলিয়টের ভূমিকায় নির্বাচিত করা হয়েছে। এই বায়োপিকটি পিটার জয়সেন ও অ্যালান গ্যাসমারের ভেরিটাস এন্টারটেইনমেন্টের উদ্যোগে তৈরি হবে এবং ক্যাসের কন্যা ওয়েন এলিয়ট-কুগেল লিখিত স্মৃতিকথা ‘মাই মা ক্যাস’ ভিত্তিক।
জেসিকা গানিং নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘বেবি রেইনডিয়ার’‑এ তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তার অভিনয় দক্ষতা ও বহুমুখী চরিত্রের অভিজ্ঞতা তাকে এই আইকনিক গায়িকার জীবনীচিত্রে উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে।
প্রযোজক পিটার জয়সেন ও অ্যালান গ্যাসমার ভেরিটাস এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। দুইজনই পূর্বে বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রকল্পে সফলতা অর্জন করেছেন এবং এখন ক্যাস এলিয়টের গল্পকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করতে চান।
বায়োপিকের মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হবে ওয়েন এলিয়ট-কুগেল রচিত ‘মাই মা ক্যাস’ স্মৃতিকথা। এই বইটি ক্যাসের ব্যক্তিগত জীবন, সঙ্গীত ক্যারিয়ার এবং পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করে।
স্ক্রিনপ্লে রচয়িতা হিসেবে এমা ফরেস্টকে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বইটির মূল বিষয়বস্তুকে চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপান্তরিত করবেন, যাতে দর্শকরা ক্যাসের জটিল ব্যক্তিত্বকে সরাসরি অনুভব করতে পারেন।
ক্যাস এলিয়ট ১৯৬০‑এর শেষের দিকে ‘দ্য মামাস অ্যান্ড দ্য পাপাস’ ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন। গ্র্যামি পুরস্কার জয়ী দলটি ‘মন্ডে, মন্ডে’ ও ‘মেক ইয়োর ওন কাইন্ড অফ মিউজিক’ মত হিট গানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। পরে তিনি একক অ্যালবাম প্রকাশ করে সলো শিল্পী হিসেবে সফলতা অর্জন করেন।
প্রকল্পটি প্রচলিত ‘দ্য মামাস অ্যান্ড দ্য পাপাস’ বায়োপিকের পরিবর্তে ক্যাস এলিয়টের একক জীবনীচিত্র হিসেবে উপস্থাপিত হবে। নির্মাতারা এটিকে ‘ডিফিনিটিভ ক্যাস এলিয়ট ফিল্ম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা তার সঙ্গীত, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং উত্তরাধিকারকে সমন্বিতভাবে তুলে ধরবে।
চলচ্চিত্রের গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে ওয়েনের ক্যাসের অকাল মৃত্যুর সত্য উদঘাটনের যাত্রা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত শহুরে কিংবদন্তি—যে ক্যাস ৩২ বছর বয়সে স্যান্ডউইচ গিলে মারা গেছেন—কে চ্যালেঞ্জ করে নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।
সেই কিংবদন্তি অনুসারে ক্যাসের মৃত্যু একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা তার ভক্তদের মধ্যে বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নতুন বায়োপিকটি ঐ অমীমাংসিত রহস্যকে স্পষ্ট করে, তার জীবনের শেষ অধ্যায়কে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্গঠন করবে।
জেসিকা গানিংকে ইউটিএ ও যুক্তরাজ্যের মার্কহাম ফ্রগ্যাট & ইরউইন এজেন্সি প্রতিনিধিত্ব করে। উভয় এজেন্সি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পরিচালনা করে এবং এই প্রকল্পে তার অংশগ্রহণকে সমর্থন দিচ্ছে।
গানিং বর্তমানে স্টিভেন সোডারবার্গের ‘দ্য ক্রিস্টোফার্স’, মার্ক ফোরস্টারের ‘অ্যানজিয়াস পিপল’ এবং ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র ‘দ্য ম্যাজিক ফারাওয়ে ট্রি’ সহ বেশ কয়েকটি উচ্চপ্রোফাইল প্রকল্পে যুক্ত আছেন। এই নতুন বায়োপিকটি তার বহুমুখী অভিনয় পরিসরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে।
ক্যাস এলিয়টের জীবনের এই পুনর্নির্মাণ চলচ্চিত্রটি সঙ্গীতপ্রেমী ও ইতিহাসপ্রেমী উভয়ের জন্যই আকর্ষণীয় হতে পারে। দর্শকরা তার সোনালী গানের সুরে মুগ্ধ হয়ে, একইসাথে তার ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও মৃত্যুর সত্যিকারের কারণ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারবেন।



