সির জিম র্যাটক্লিফ, যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-মালিক, সম্প্রতি স্কাই নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যকে “ইমিগ্র্যান্টদের দ্বারা উপনিবেশিত” বলে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যের পরই তিনি ভাষা নির্বাচনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং কিছু মানুষকে আঘাতের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
সির কীয়ার স্টারমার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা র্যাটক্লিফের মন্তব্যকে তীব্র সমালোচনা করেন, যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও সামাজিক গঠনকে অবমাননা করা হিসেবে বিবেচনা করে। সমালোচকরা উল্লেখ করেন যে এমন রেটোরিক্স জাতিগত উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং জনমতকে বিভক্ত করতে পারে।
র্যাটক্লিফের জনসংখ্যা সংক্রান্ত দাবির বিপরীতে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের মধ্য-বর্ষ ২০২৫ প্রাক্কলন ৬৯.৪ মিলিয়ন, যা ২০২০ সালের ৬৬.৭ মিলিয়নের তুলনায় ২.৭ মিলিয়ন বৃদ্ধি নির্দেশ করে। তিনি যে ১২ মিলিয়ন বৃদ্ধি উল্লেখ করেছেন, তা প্রকৃত সংখ্যা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
১৯৯৫ সালে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা আনুমানিক ৫৮ মিলিয়ন ছিল। সুতরাং, ১২ মিলিয়ন বৃদ্ধি তিন দশকেরও বেশি সময়ে ঘটেছে, এক বছরের মধ্যে নয়। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা দেখায় যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ধীরগতিতে ঘটেছে।
১৯৯৯ সালের পর থেকে অভিবাসন প্রায়শই জন্ম হারের চেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। বেশিরভাগ বছরেই বিদেশি প্রবেশের সংখ্যা স্বাভাবিক জননির্বাচনের চেয়ে বেশি হয়েছে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত নিট অভিবাসন যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রায় ৯৮% দায়ী। এই তথ্য দেখায় যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনই জনসংখ্যা বৃদ্ধির মূল উৎস।
র্যাটক্লিফের আরেকটি বিতর্কিত মন্তব্য ছিল “নয় মিলিয়ন মানুষ কল্যাণে নির্ভরশীল, এমন অর্থনীতি চালানো যায় না”। তবে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনসের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ গ্রেট ব্রিটেনে প্রায় ১০ মিলিয়ন কর্মক্ষম বয়সের মানুষ বিভিন্ন ধরনের কল্যাণ গ্রহণ করছিল।
এই ১০ মিলিয়নের মধ্যে বড় অংশ কর্মরত এবং তাদের আয়কে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট বা হাউজিং বেনিফিটের মাধ্যমে সম্পূরক করা হয়। অর্থাৎ, তারা সম্পূর্ণভাবে কল্যাণের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং আয়ের অতিরিক্ত সহায়তা পায়।
কাজহীন অবস্থায় কল্যাণ গ্রহণকারী ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন, যা র্যাটক্লিফের উল্লেখিত নয় মিলিয়নের তুলনায় কম। এই পার্থক্য তার দাবির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে।
তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কল্যাণ গ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়াচ্ছে। সরকার এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করছে।
অভিবাসনের আর্থিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এখনও চলমান। কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেন যে অভিবাসীরা শ্রমবাজারে অবদান রাখে এবং কর আয় বাড়ায়, অন্যরা ব্যয়বহুল সেবা ও কল্যাণের উপর চাপের কথা উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিকভাবে, র্যাটক্লিফের মন্তব্য এবং তার পরবর্তী সমালোচনা পার্টি-ভিত্তিক বিতর্ককে তীব্র করে তুলতে পারে। সরকারী পক্ষ থেকে অভিবাসন নীতি এবং কল্যাণ সংস্কারের উপর আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে, এবং পার্লামেন্টে এই বিষয়গুলো নিয়ে তীব্র আলোচনা প্রত্যাশিত।



