বেরলিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ২০২৬ সংস্করণে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত রেকর্ড হয়েছে। টুর্কি রাতের শীতল ও বৃষ্টিময় আবহাওয়ায়, ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিশেল ইউ হো স্বর্ণভালু পুরস্কার গ্রহণ করে গর্বিত হন। এই অনুষ্ঠানটি শারবনু সাদাতের আফগানি চলচ্চিত্র “নো গুড মেন” এর বিশ্বপ্রদর্শনের সঙ্গে সমন্বিত ছিল, যা ফেস্টিভ্যালের প্রধান হল, বার্লিনাল প্যালাস্টে উপস্থাপিত হয়।
শারবনু সাদাত, যিনি চলচ্চিত্রের পরিচালক ও প্রধান অভিনেত্রী, তার সঙ্গে সহ-অভিনেতা আনওয়ার হাশিমি, লিয়াম হুসসাইনি, ইয়াসিন নেগাহ এবং তর্কান ওমারি লাল কার্পেটের ওপর উপস্থিত ছিলেন। শীতের তীব্র ঠাণ্ডা ও বৃষ্টির কারণে উপস্থিতিরা উষ্ণ পোশাক পরিধান করে, তবু ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারটি আফগানি সংস্কৃতির সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবিক গল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্য রাখে।
বার্লিনাল প্যালাস্টের ভেতরে দর্শকবৃন্দের মধ্যে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল প্রতিভা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পরিচিত তারকা উপস্থিত ছিলেন। নিল প্যাট্রিক হ্যারিস, ড্যানিয়েল ব্রুহ, বেলা রামসে, লার্স আইডিঙারসহ বিভিন্ন শিল্পীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও রঙিন করে তুলেছিল। এই বৈচিত্র্যময় সমাবেশটি ফেস্টিভ্যালের আন্তর্জাতিক স্বভাবকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।
চলচ্চিত্রের স্ক্রিনিংয়ের আগে, মিশেল ইউ হোকে সম্মানজনক স্বর্ণভালু পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারটি ফেস্টিভ্যালের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক পুরস্কার, যা পূর্বে মার্টিন স্কোরসেসি, মেরি স্ট্রিপ, টিল্ডা সুইন্টন এবং স্টিভেন স্পিলবার্গের মতো বিশিষ্ট শিল্পীকে প্রদান করা হয়েছে। ইউ হোর এই সম্মান গ্রহণের মুহূর্তটি ফেস্টিভ্যালের অন্যতম হাইলাইট হিসেবে চিহ্নিত হয়।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বহু পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা শন বেকার উপস্থিত ছিলেন। বেকার, যিনি একাধিক অস্কার জিতেছেন, সম্প্রতি ইউ হোর সঙ্গে “সানডিওয়ারা” নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে সহযোগিতা করেছেন, যা একই ফেস্টিভ্যালের শুক্রবারে প্রিমিয়ার হয়। তিনি ইউ হোর অভিনয়শক্তিকে এক প্রজন্মের একবারই দেখা যায় এমন উপস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তার স্ক্রিনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয় বলে উল্লেখ করেন।
বেকার স্বর্ণভালু পুরস্কারকে শিল্পের স্বাধীনতা, শক্তি এবং নির্ভীকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন এবং মিশেল ইউ হোর দীর্ঘমেয়াদী কর্মজীবনকে এই গুণাবলীর উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করেন। তিনি ইউ হোকে দশকের পর দশক ধরে অসংখ্য স্মরণীয় পারফরম্যান্সের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং চলচ্চিত্র শিল্পে মানদণ্ড উঁচু করার জন্য তার অবদানের প্রশংসা করেন। বেকার বলেন, ইউ হোর উপস্থিতি দর্শকদের সিনেমার প্রতি প্রেম পুনরুজ্জীবিত করে।
মঞ্চে ওঠার সময় ইউ হো স্বাভাবিকভাবে শান্ত ও দৃঢ় স্বভাব বজায় রাখেন। তিনি পুরস্কার গ্রহণের সময় সংক্ষিপ্ত কিন্তু আন্তরিক ভাষণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, ফেস্টিভ্যালের আয়োজকদের এবং চলচ্চিত্র শিল্পের সকল সহকর্মীর প্রতি ধন্যবাদ জানান। তার এই বক্তব্যে তিনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় স্পর্শ করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এই পুরস্কার গ্রহণের মাধ্যমে মিশেল ইউ হো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তার অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করেন। স্বর্ণভালু পুরস্কার, যা শিল্পের স্বাধীনতা ও সাহসিকতার প্রতীক, তার ক্যারিয়ারের গৌরবময় অধ্যায়ে নতুন এক মাইলফলক যোগ করে। ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী রাতটি এইভাবে শিল্পের সীমানা প্রসারিত করার এবং বৈশ্বিক চলচ্চিত্র সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এই প্রথম দিনটি চলচ্চিত্রের শক্তি, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং শিল্পীর অবদানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি স্মরণীয় অনুষ্ঠান হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।



