ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১১ এবং ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকার প্রাথমিক ফলাফল নির্বাচন অফিসের রিটার্নিং অফিসার প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী তিনটি আসনে বিএনপি শীর্ষে, আর একটিতে এনসিপি শীর্ষে রয়েছে। এই ফলাফলগুলো এখনও সম্পূর্ণ নয়, তবে বর্তমান গতি পার্টিগুলোর কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিটি আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ও এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলের পরিমাণও প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা-৭-এ ১৬৫ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ছয়টি, ঢাকা-৯-এ ১৭০ কেন্দ্রের মধ্যে এগারোটি, ঢাকা-১১-এ ১৬৩ কেন্দ্রের মধ্যে ষোলোটি এবং ঢাকা-১৮-এ ২১৯ কেন্দ্রের মধ্যে নয়টি ফলাফল রেজিস্টার করা হয়েছে। এ পর্যায়ে প্রাপ্ত তথ্যগুলো প্রাথমিক হলেও ভোটের প্রবণতা স্পষ্ট করে তুলেছে।
ঢাকা-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী হামিদুর রহমান ৩,৮৪১ ভোট পেয়ে শীর্ষে দাঁড়িয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত‑ই‑ইসলামের এমডি এনায়েত উল্লা ৩,৪১৪ ভোট সংগ্রহ করেছেন। যদিও কেন্দ্রীয় ফলাফল এখনও অল্প, তবে দুই প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্য প্রায় চারশো ভোটে সীমাবদ্ধ, যা পরবর্তী কেন্দ্রে ভোটের প্রবাহে পরিবর্তন আনতে পারে।
ঢাকা-৯-এ বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ ৫,৯৫৯ ভোট নিয়ে অগ্রগতি বজায় রেখেছেন। তার পরের স্থান দখল করেছেন এনসিপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া ২,৫১৭ ভোটে, আর স্বাধীন প্রার্থী তাসনিম জারা, যিনি ফুটবল চিহ্ন ব্যবহার করেছেন, ২,৩৬৬ ভোট পেয়েছেন। তাসনিমের ফলাফল দেখায় যে স্বাধীন প্রার্থীরাও কিছু ভোটার গোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম।
স্বাধীন প্রার্থীর তুলনামূলকভাবে উচ্চ ভোটসংখ্যা নির্বাচনী পরিবেশে ভোটারদের বৈচিত্র্যময় পছন্দকে নির্দেশ করে। যদিও তিনি কোনো বড় পার্টির সঙ্গে যুক্ত নন, তবু তার উপস্থিতি ভোটের ভাগাভাগিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যদি তিনি নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে উচ্চ সমর্থন পেয়ে থাকেন।
ঢাকা-১১-এ এনসিপি প্রার্থী সাহিদুল ইসলাম ৮,৯৬৯ ভোটে শীর্ষে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএ কায়ুম ৭,৩৯১ ভোট সংগ্রহ করেছেন। দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রায় এক হাজার ভোটের পার্থক্য রয়েছে, যা এখনও শেষ পর্যন্ত পরিবর্তনশীল হতে পারে, তবে বর্তমান পর্যায়ে এনসিপি’র অবস্থান দৃঢ়।
সাহিদুল ইসলামের এই জয় তার পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঢাকা-১১ একটি কৌশলগত আসন হিসেবে বিবেচিত। পার্টি নেতারা এই ফলাফলকে ভবিষ্যৎ প্রচারণার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, বিশেষত অন্যান্য আসনে ভোটের প্রবাহকে প্রভাবিত করার জন্য।
ঢাকা-১৮-এ বিএনপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ৪,৩০৯ ভোট পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি প্রার্থী আরিফুল ইসলাম ৩,৩৬৯ ভোট পেয়েছেন। যদিও পার্থক্য তুলনামূলকভাবে বেশি, তবে এখনও বেশিরভাগ কেন্দ্রের ফলাফল রেজিস্টার হয়নি, তাই চূড়ান্ত ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি তিনটি আসনে অগ্রগতি বজায় রেখেছে, আর এনসিপি একটি আসনে শীর্ষে রয়েছে। এই পরিস্থিতি পার্টিগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে, বিশেষত আসন্ন ভোটগণনা এবং চূড়ান্ত ঘোষণার আগে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এনসিপি প্রার্থী সাহিদুল ইসলাম তার জয়কে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখছেন এবং বাকি আসনে ভোট সংগ্রহ বাড়ানোর জন্য প্রচার চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থীরা তাদের অগ্রগতি বজায় রাখতে এবং বাকি কেন্দ্রগুলোতে ভোটের প্রবাহকে নিজের দিকে টেনে আনতে মনোযোগ দেবে।
পরবর্তী ধাপে নির্বাচন কমিশন বাকি কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করে চূড়ান্ত গণনা সম্পন্ন করবে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর পার্লামেন্টে আসন বণ্টন নির্ধারিত হবে, যা জাতীয় স্তরে সরকার গঠনে প্রভাব ফেলবে। উভয় পার্টি এই পর্যায়ে ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মনোযোগী থাকবে।



