ভিনসেনজো ইওজ্জো, যিনি জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত হ্যাকার হিসেবে পরিচিত, বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা সম্মেলন ব্ল্যাক হ্যাট এবং জাপানের কোড ব্লু সাইটে আর তালিকাভুক্ত নয়। এই পরিবর্তন বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী ঘটেছে, যেখানে এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত তার নাম উভয় সাইটে দেখা যেত। ইওজ্জো ২০১১ সাল থেকে ব্ল্যাক হ্যাটের রিভিউ বোর্ডে ছিলেন, যা তার লিঙ্কডইন প্রোফাইলের তথ্য নিশ্চিত করে, এবং কোড ব্লুতে একই ভূমিকা পালন করতেন।
ইওজ্জো এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক নন এবং সম্পূর্ণ তদন্তের স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি কোনো চাপের মুখে না গিয়ে নিজের অবস্থান রক্ষা করতে চান। ব্ল্যাক হ্যাটের প্রতিনিধিরা এই মন্তব্যের ওপর কোনো মন্তব্য করেননি এবং বর্তমান সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।
বর্তমানে ইওজ্জো স্ল্যাশআইডি নামক সাইবারসিকিউরিটি স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। তার ক্যারিয়ার বহু বছর ধরে সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিস্তৃত, যার মধ্যে অ্যাপল মোবাইল সফটওয়্যারের প্রাথমিক হ্যাকিং ম্যানুয়াল রচনা অন্তর্ভুক্ত। ২০১৫ সালে তিনি আইপারলেইন নামে একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে ক্রাউডস্ট্রাইকে বিক্রি হয়।
ক্রাউডস্ট্রাইকে যোগদানের পর ইওজ্জো প্রায় চার বছর সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন এবং বিভিন্ন উচ্চপ্রোফাইল নিরাপত্তা প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন। এই সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নিয়মিত বক্তা হিসেবে অংশ নেন এবং শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার অংশ হয়ে ওঠেন। তার প্রযুক্তিগত অবদানগুলোকে শিল্পের অনেক বিশ্লেষক প্রশংসা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৩০ জানুয়ারি এপস্টেইনের তদন্তের অংশ হিসেবে ২,৩০০টিরও বেশি নথি প্রকাশ করে, যেখানে ইওজ্জোর নাম উল্লেখ রয়েছে। এই নথিগুলিতে ইওজ্জো এবং এপস্টেইনের মধ্যে অক্টোবর ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ইমেইল ও অন্যান্য যোগাযোগের রেকর্ড দেখা যায়। নথিগুলোতে দেখা যায় যে ইওজ্জো এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।
২০১৮ সালের শেষের দিকে মিয়ামি হার্বল এপস্টেইনের ওপর ৬০টিরও বেশি নারী, যার মধ্যে কিশোরীও অন্তর্ভুক্ত, যৌন শোষণের অভিযোগ প্রকাশ করে। এই প্রকাশের পর ইওজ্জোর ইমেইলগুলোতে দেখা যায় যে তিনি এপস্টেইনের নিউ ইয়র্কের টাউনহাউসে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করছিলেন। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইওজ্জো এই সময়ে এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ইওজ্জোর এই সংযোগের বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা শিল্পে বিস্তৃত আলোচনার সূচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এ ধরনের সম্পর্কগুলো শিল্পের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্মেলনের রিভিউ বোর্ডে অবস্থান করেন। কিছু বিশ্লেষক ইওজ্জোর নাম মুছে ফেলা একটি সতর্কতা হিসেবে দেখছেন, যা সম্মেলন আয়োজকরা নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে নিতে পারে।
ব্ল্যাক হ্যাট এবং কোড ব্লু উভয়ই বিশ্বব্যাপী সাইবার সিকিউরিটি পেশাদারদের জন্য প্রধান মঞ্চ, যেখানে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা ও হ্যাকিং কৌশল উপস্থাপন হয়। ইওজ্জোর নাম মুছে ফেলা এই দুই সংস্থার জন্য একটি সতর্কতা হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা তাদের অংশগ্রহণকারীদের নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে চাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এই পদক্ষেপের পর শিল্পের মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে।
ইওজ্জো নিজে দাবি করেছেন যে তিনি কোনো স্বেচ্ছা পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেননি এবং সম্পূর্ণ তদন্তের জন্য প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি সব প্রমাণের সামনে দাঁড়াতে ইচ্ছুক এবং তার পেশাগত সুনাম রক্ষার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। তার এই অবস্থানকে কিছু পর্যবেক্ষক ন্যায়সঙ্গত বলে বিবেচনা করেন, আবার অন্যরা আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
ব্ল্যাক হ্যাটের অফিসিয়াল মন্তব্যের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, সম্মেলনের পরিচালনা দল ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে অংশগ্রহণকারীদের পটভূমি যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা হবে এবং নৈতিক মানদণ্ড লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে। এই নীতি পরিবর্তনগুলো শিল্পের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইওজ্জোর ক্যারিয়ার এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার সংযোগের বিশদ তথ্য এখনও তদন্তের অধীনে রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট নথিগুলি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এই বিষয়গুলো সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের মানদণ্ড পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। ভবিষ্যতে সম্মেলন ও শিল্প সংস্থাগুলো কীভাবে এই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে, তা সাইবার নিরাপত্তা সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।



