সন্ধ্যা ৯:১৫ টার দিকে রিটার্নিং অফিসার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নেট্রকোনা জেলায় পাঁচটি সংসদীয় আসনে ভোটের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। ফলাফল থেকে দেখা যায়, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা চারটি আসনে অগ্রগতি বজায় রেখেছেন, আর একটিতে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী সামান্য পার্থক্যে এগিয়ে।
নেট্রকোনা-১ (কালমাকান্দা‑দুর্গাপুর) আসনে ১২৪টি পোলিং সেন্টারের মধ্যে ৭৭টি থেকে ফলাফল পাওয়া গিয়েছে। বিএনপি প্রার্থী কাইজার কামাল ৯৯,২৬৩ ভোট সংগ্রহ করে শীর্ষে, আর ১১‑দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম রাব্বানি (রিকশা চিহ্ন) ৫৩,২৬০ ভোটে দ্বিতীয় স্থানে।
নেট্রকোনা-২ (সদর‑বড়হট্ট) আসনে ১৭৩টি সেন্টারের মধ্যে ১১৫টি থেকে ফলাফল জানানো হয়েছে। বিএনপি প্রার্থী মো. আনওয়ারুল হক ৬৭,৩৯৩ ভোটে অগ্রগামী, আর ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) জোটের প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠান (জলকুম্ভ চিহ্ন) ২৬,২৫০ ভোটে তৃতীয় স্থানে।
নেট্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া‑আতপাড়া) আসনে ১৫০টি সেন্টারের মধ্যে ৭১টি থেকে ফলাফল প্রকাশিত। বিএনপি প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালি ৫৪,৬৬৭ ভোটে শীর্ষে, আর স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী মো. দিলওয়ার হোসেন ভূঁইয়া (ঘোড়া চিহ্ন) ৩১,৯৫৪ ভোট পেয়েছেন।
নেট্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ‑মদন‑খালিয়াজুড়ি) আসনে ১৫০টি সেন্টারের মধ্যে ১১৫টি থেকে ফলাফল জানানো হয়েছে। বিএনপি প্রার্থী লুৎফোজ্জামান বাবার ১,২১,৮২৫ ভোটে সুস্পষ্ট অগ্রগতি, আর জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মো. আল হেলাল (তুলা চিহ্ন) ৩১,৪৫৩ ভোটে দ্বিতীয় স্থানে।
নেট্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ৮৩টি সেন্টারের মধ্যে ৭৫টি থেকে ফলাফল প্রকাশিত। বিএনপি প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার ৭১,৫৭৭ ভোট পেয়েছেন, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মাশুম মোস্তফা ৭৫,০২৪ ভোটে সামান্য অগ্রগতি দেখিয়ে প্রায় ৩,৪৪৭ ভোটের পার্থক্য বজায় রেখেছেন।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, চারটি আসনে বিএনপি অগ্রগতি বজায় রেখেছে, আর একটিতে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী সীমিত পার্থক্যে শীর্ষে রয়েছে। এই ফলাফলগুলো পার্টিগুলোর জেলাভিত্তিক শক্তি কাঠামোকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
একই সময়ে রেফারেন্ডামের প্রাথমিক ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। মোট ৬৭৬টি পোলিং সেন্টারের মধ্যে ৪০৫টি থেকে ফলাফল পাওয়া গিয়েছে, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট ৩৬০,৬০০ এবং ‘না’ ভোট ২২৫,৪৫৪। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল এখনও বাকি সেন্টার থেকে আসতে বাকি, বর্তমান সংখ্যা ‘হ্যাঁ’ পক্ষে স্পষ্ট অগ্রগতি নির্দেশ করে।
এই প্রাথমিক ফলাফলগুলো নির্বাচনী পরিসরে পার্টিগুলোর কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিএনপি জেলায় শক্তি বজায় রাখতে সক্ষম, তবে জামায়াত-এ-ইসলামির একক আসনে অগ্রগতি তাদের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনায় নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) প্রার্থী উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে থাকা ভোটসংখ্যা তাদের জেলাভিত্তিক প্রভাব হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
ফলাফল চূড়ান্ত হলে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতি নেবে, আর পার্টিগুলো পরবর্তী নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করবে। এই প্রাথমিক ডেটা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক গতিবিধি কীভাবে গড়ে উঠবে তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রদান করছে।



