সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসন থেকে ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের অপ্রতিষ্ঠিত ফলাফল প্রকাশের পর, জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মানির, যিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীও, বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে বিজয়ী হিসেবে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। পোস্টটি রাত ৮:৩০ টার দিকে তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেয়।
ফেসবুক পোস্টে শিশির মানির লিখেছেন, “আমার আসনে বিজয়ী নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।” তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বিজয়ীর প্রতি তার শুভকামনা প্রকাশ করেছেন এবং ফলাফলের প্রতি স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার আজকের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রার্থীর সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের স্বচ্ছতা বাড়ে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে।
প্রতিপক্ষের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রুদ্র মিজান জানান, ৮:০০ টার মধ্যে ১১১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ৮৮টি কেন্দ্রে নাসির উদ্দিন চৌধুরী ‘ধানের গাঁথা’ প্রতীকী চিহ্নের অধীনে ৭৪,২৮৯টি ভোট পেয়েছেন।
একই সময়ে শিশির মানির ৪২,৪৬৭টি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ৮৮টি কেন্দ্রে নাসির উদ্দিন চৌধুরীর ভোটের পার্থক্য ৩১,৮২০, যা তাকে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখে।
গণনা করা ভোটের ভিত্তিতে নাসির উদ্দিন চৌধুরীর ভোট ভাগ প্রায় ৬৩.৫ শতাংশ, যেখানে শিশির মানির প্রায় ৩৬.৫ শতাংশ। এই পার্থক্য সুনামগঞ্জ-২ আসনে ভোটারদের পছন্দের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
শিশির মানির পূর্বে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী তালিকায় তার রাজনৈতিক প্রোফাইল শক্তিশালী। তার আইনজীবী পেশা ও ছাত্র সংগঠনের অভিজ্ঞতা তাকে নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী করে তুলেছে।
নাসির উদ্দিন চৌধুরী বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পূর্বে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সুনামগঞ্জ-২ আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উপস্থিতি ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় সুবিধা পেয়েছেন।
বিএনপি, যা সাম্প্রতিক সময়ে নিবন্ধন সংক্রান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, এই ফলাফলকে পার্টির জাতীয় পর্যায়ে পুনরুজ্জীবনের সূচক হিসেবে দেখছে। সুনামগঞ্জ-২ এর জয় দলকে সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারে।
বাকি ২৩টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফল এখনও সংগ্রহ করা হয়নি, যা চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমান অপ্রতিষ্ঠিত ফলাফলের ভিত্তিতে নাসির উদ্দিন চৌধুরীর জয় নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই আসনে বিজয়ী নির্ধারণের ফলে উভয় দলই জাতীয় পর্যায়ে তাদের আসন সংগ্রহের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে। বিশেষ করে বিএনপি, যেটি সাম্প্রতিক সময়ে নিবন্ধন সমস্যার মুখে, সুনামগঞ্জ-২ এর জয়কে সমর্থন হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
যদি নাসির উদ্দিন চৌধুরীর জয় নিশ্চিত হয়, তবে তিনি ও তার দল ভবিষ্যতে সম্ভাব্য জোট গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি-র মধ্যে ঐতিহাসিক সহযোগিতা এই নির্বাচনী চক্রে পুনরায় দেখা দিতে পারে।
নির্বাচনী কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণা পর্যন্ত উভয় প্রার্থীর দলই প্রচারণা চালিয়ে যাবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখবে। ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী ধাপগুলোতে নির্বাচনী ফলাফলের আইনি চ্যালেঞ্জ ও পুনরায় গণনা প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



