সিবিএস নিউজের ইভনিং নিউজ প্রোগ্রামের কিছু প্রোডাকশন কর্মী শেষ জানুয়ারি বায়আউট গ্রহণের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। এই পদক্ষেপটি টনি ডোকুপিলের নতুন অ্যানকরিত্বের পর এবং এডিটর‑ইন‑চিফ বারি ওয়েইসের ২৭ জানুয়ারি টাউন হল সভায় প্রকাশিত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।
বায়আউট প্রস্তাবটি অ-ইউনিয়ন কর্মীদের জন্য শেষ জানুয়ারি মাসে দেওয়া হয়। টনি ডোকুপিলের অ্যানকরিত্বের কয়েক সপ্তাহ পর এবং বারি ওয়েইসের “সিবিএস নিউজকে ২১শ শতাব্দীর জন্য উপযুক্ত করা” শিরোনামের বক্তব্যের পর এই প্রস্তাবটি প্রকাশিত হয়। ওয়েইস টাউন হল সভায় উল্লেখ করেন যে মিডিয়া শিল্প গত দশকে অতীতের ১৫০ বছরের চেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয়েছে এবং পরিবর্তন এখনও চলমান। তিনি ভবিষ্যতে পরিবর্তনের গতি আরও দ্রুত হবে বলে ইঙ্গিত দেন।
বায়আউট গ্রহণকারী কর্মীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত এগারো জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে প্রোডিউসার অ্যালিসিয়া হাস্টি অন্তর্ভুক্ত, যিনি শেষমেশ ইভনিং নিউজ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হাস্টি তার সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি বিদায় বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নিজের কাজের সময়কালে অপ্রতিনিধিত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য করা প্রচেষ্টার উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি এমন গল্পে কাজ করেছেন যা কম শোনা যায় এমন কণ্ঠস্বরকে সামনে এনেছে এবং এমন সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যা প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
হাস্টি তার বিদায় বার্তায় আরও বলেন, সম্প্রতি সিবিএস নিউজের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত ব্রডকাস্টের নিয়ম থেকে বিচ্যুত হয়ে “হেটেরোডক্স” সাংবাদিকতার দিকে ঝুঁকছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গল্পের গুণগত মানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট আদর্শিক প্রত্যাশা পূরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে প্রোডিউসার ও রিপোর্টারদের ওপর স্ব-সেন্সরশিপের চাপ বাড়ছে এবং চ্যালেঞ্জিং বিষয়বস্তু উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
হাস্টির বিদায় বার্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসের মিডিয়া রিপোর্টার বেন মুলিনের টুইটে শেয়ার করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি কাজের সময় যে গল্পগুলোতে কম প্রতিনিধিত্বপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, সেগুলো এখন নতুন আদর্শিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই পরিবর্তনকে তিনি “বিস্তৃত নতুন দৃষ্টিভঙ্গি” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের কাঠামোকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
সিবিএস নিউজের এই বায়আউট প্রস্তাবের বিষয়ে দ্য হলিউড রিপোর্টার মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি। বায়আউট গ্রহণকারী কর্মীদের মধ্যে অ্যালিসিয়া হাস্টি ছাড়াও আরও কয়েকজন প্রোডাকশন স্টাফ অন্তর্ভুক্ত, যারা নতুন নেতৃত্বের অধীনে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন মনে করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
সিবিএস নিউজের নতুন অ্যানকর টনি ডোকুপিল সম্প্রতি শোটি পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তার নেতৃত্বে প্রোগ্রামের ফরম্যাট ও বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা কিছু কর্মীর জন্য অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে। বারি ওয়েইসের নেতৃত্বে সিবিএস নিউজের সামগ্রিক কৌশলগত পুনর্গঠনও এই বায়আউটের পেছনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সিবিএস নিউজের এই পদক্ষেপ মিডিয়া শিল্পের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। শিল্পের অভ্যন্তরে আদর্শিক প্রত্যাশা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি এখনো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
এই ঘটনায় দেখা যায় যে, সংবাদ সংস্থাগুলি নতুন প্রযুক্তি ও দর্শকের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের কাঠামো পুনর্গঠন করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে, সাংবাদিকদের সৃজনশীল স্বাধীনতা ও গল্প বলার স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার জন্য স্পষ্ট নীতি ও সমর্থন প্রয়োজন।
সিবিএস নিউজের বায়আউট প্রোগ্রাম এবং অ্যালিসিয়া হাস্টির বিদায়ের পরিণতি কীভাবে সংস্থার ভবিষ্যৎ গঠনকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মিডিয়া কর্মীদের জন্য স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।



