গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ‑এ ম্যাচে ভারত এ ২০৯ রান ও ৯ উইকেটের সঙ্গে নামিবিয়াকে ৯৩ রান পার করে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের সুপার আট পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে। ম্যাচটি বৃহস্পতিবার আরুন জৈতলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারত এ গ্রুপ‑এ শীর্ষে উঠে নেট রানের পার্থক্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকে; উভয় দলই দুইটি জয় পেয়ে চার পয়েন্ট অর্জন করেছে।
বাটিংয়ে ভারত এ প্রথম ব্যাটিং করে, ওপেনার ইশান কিশান ৬১ রান এবং মাঝামাঝি ব্যাটসম্যান হার্দিক পাণ্ড্যা ৫২ রান করে দ্রুত অর্ধশতক পূরণ করে। উভয়ের দ্রুত অর্ধশতক স্কোরের ফলে দলটি ২০৯-৯ পর্যন্ত পৌঁছায়, যা টিমের মোট স্কোরকে ২০০ রানের সীমা অতিক্রম করায় আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
নামিবিয়া ১৮ ও ২ ওভারে ১১৬ রান করে আটকে যায়। দলটি শুরুর দিকে কিছুটা দৃঢ়তা দেখালেও, ধারাবাহিক উইকেটের ফলে স্কোর দ্রুত কমে যায়। নামিবিয়ার ক্যাপ্টেন গেরহার্ড ইউরেসমাসের ৪ উইকেটের পারফরম্যান্স (৪-২০) ইশান কিশানের ২৪‑বলে ঝড়ের মতো আক্রমণ থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইশান কিশান প্রথমে ১১ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে যায়, তবে রিভিউয়ের পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয় এবং রিভিউতে দেখা যায় তিনি প্যাডে আঘাতের আগে এজ করেছে। পুনর্বার সুযোগ পেয়ে তিনি জে.জি. স্মিটের ওপর চারটি ছয় মারেন এবং ২০ বলের মধ্যে অর্ধশতক স্কোর করেন, যা দলের দ্রুত রেট বাড়ায়।
নামিবিয়ার ফিল্ডিংয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি দেখা দেয়, যখন লৌরেন স্টিনক্যাম্প টিলাক ভারমা (১৯ রানে) ড্রপ করেন। এই সুযোগটি ভারত এ-কে দ্রুত ৫০ রান পৌঁছাতে সহায়তা করে; পরবর্তী ৫০ রান মাত্র ১৪ বলেই সম্পন্ন হয়। হার্দিক পাণ্ড্যা চারটি ছয় মারেন, আর শিবাম দুবে ২৩ রান যোগ করে দলকে ২০০ রানের চিহ্ন অতিক্রম করতে সাহায্য করেন।
সামসন (২২) তৃতীয় ওভারে তিনটি ছয় মারলেও, শুরুরই সময়ই তিনি দ্বিতীয় ওভারে আউট হন, ফলে তার সম্ভাবনা সীমিত থাকে। অবহেলাসহ, লৌরেন স্টিনক্যাম্প (২৯) ও জান ফ্রিলিন্ক (২২) নামিবিয়ার শুরুর ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক সূচনা করলেও, ধারাবাহিক উইকেটের ফলে দলটি দ্রুত পতনের মুখে আসে।
ভারত এ’র ক্যাপ্টেন সুর্যকুমার যাদব ম্যাচের পর মন্তব্য করে, “সবার জন্যই এটা একটি ভালো ম্যাচ ছিল।” তিনি স্টেডিয়ামের পিচের কঠিনতা উল্লেখ করে বলেন, “এখানে ব্যাটিং করা সহজ নয়, ইশান ও সানজু (স্যামসন) শুরুর সময়ে তা স্পষ্ট ছিল না, তবে পিচটি কঠিনই ছিল।” দলের প্রধান ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মা বর্তমানে পেটের সংক্রমণের কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম, ফলে স্যামসনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হয়।
এই জয় দিয়ে ভারত এ গ্রুপ‑এ শীর্ষে উঠে, নেট রানের পার্থক্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকে। দু’দলই দু’টি জয় পেয়েছে, তবে রানের পার্থক্যই তাদের অবস্থান নির্ধারণ করে। পরের ম্যাচে ভারত এ ও পাকিস্তান কলম্বোতে রবিবার মুখোমুখি হবে, যা গ্রুপ‑এর শীর্ষস্থানে চূড়ান্ত লড়াই হবে।
সারসংক্ষেপে, ভারত এ ২০৯-৯ স্কোরে নামিবিয়াকে ৯৩ রান পার করে সুপার আটে অগ্রসর হয়েছে, গ্রুপ‑এ শীর্ষে অবস্থান নিশ্চিত করেছে এবং পরবর্তী উচ্চপ্রোফাইল ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে।



