সুইডেনের কম্পোজার লুডউইগ গোরানসন রায়ান কুগলার পরিচালিত ‘সিনার্স’ ছবির জন্য ব্লুজ ভিত্তিক সাউন্ডট্র্যাক রচনা করে, যা এই বছর একাডেমি পুরস্কারের সেরা মূল সঙ্গীতের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে। ছবির ভৌতিক ও আধ্যাত্মিক থিমের সঙ্গে ব্লুজের মেলোডি যুক্ত করার কাজটি গোরানসনের ক্যারিয়ারের নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
কুগলার গোরানসনকে এই প্রকল্পে যুক্ত করার সময় তিনি স্বীকার করেন যে গোরানসনের সঙ্গীতের মূল রুচি মেটালিকাভিত্তিক, আর ব্লুজ তার পিতার প্রিয় শৈলী। তাই গোরানসন প্রথমে প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তিনি নিজের সুরে ব্লুজের আত্মা ঢুকিয়ে দিতে পারবেন। এই দ্বিধা সত্ত্বেও তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং ছবির সাউন্ডট্র্যাকের দায়িত্ব নেন।
প্রযোজনা চলাকালীন সময়ে গোরানসন এবং চলচ্চিত্রের টিম নিউ অরলিন্সে গিয়ে সরাসরি দক্ষিণের সঙ্গীত সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। শহরের জ্যাজ ও ব্লুজ পরিবেশে ডুবে তিনি শৈশবের স্মৃতি তাজা করেন, যখন তার বাবা তাকে ব্লুজ গিটারশিল্পীর সুর শোনাতেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে সাউন্ডট্র্যাকের মূল দিক নির্ধারণে সাহায্য করে।
গোরানসন কয়েক সপ্তাহের সময় নিজে একা গিটারে মনোনিবেশ করে সঙ্গীত রচনা করেন। তিনি বলেন, তার তরুণ বয়সে গিটার বাজানোই তার পরিচয় ছিল, এবং এই অনুভূতিটাই তিনি ছবির প্রতিটি সুরে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে চান। ছবিতে অভিনেতা মাইলস ক্যাটন যে গিটার বাজায়, সেটিই গোরানসনের রচনায় মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ফলস্বরূপ তৈরি সাউন্ডট্র্যাকটি গোরানসনের স্বতন্ত্র বিশাল স্কেলকে ক্লাসিক ব্লুজ গিটার, হারমোনিকা এবং ডেল্টার গসপ ও ফোকের সঙ্গে মিশ্রিত করে। এছাড়া আইরিশ সঙ্গীতের কিছু উপাদানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ছবির আধ্যাত্মিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে। এই বহুমুখী সুরের সমন্বয় দর্শকদের জন্য একটি অনন্য শোনার অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
গোরানসন এই প্রকল্পে বিশ্বের শীর্ষ ব্লুজ শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেন। ববি রাশ এবং বাডি গাই, যাঁরা ছবিতে বয়স্ক সামি চরিত্রে অভিনয় করেন, তাদের সঙ্গে পাশাপাশি তরুণ ব্লুজ গিটারিস্ট ক্রিস্টোন “কিংফিশ” ইনগ্রামও সঙ্গীতের অংশ হিসেবে যুক্ত হন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা সাউন্ডট্র্যাককে আরও প্রামাণিক ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
সিনার্সের সাউন্ডট্র্যাককে একাডেমি সেরা মূল সঙ্গীতের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা গোরানসনের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতি ছবির সঙ্গীতের গুণমান এবং ব্লুজের সঠিক উপস্থাপনাকে তুলে ধরে।
কুগলার এবং গোরানসনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ছবির সঙ্গীতকে গভীরতা প্রদান করেছে। কুগলার ছবির ব্লুজ থিমের জন্য ব্যাপক গবেষণা করেছেন, যা গোরানসনের সৃষ্টিতে সঠিক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এনে দিয়েছে। এই পারস্পরিক সমঝোতা সাউন্ডট্র্যাককে ছবির বর্ণনার সঙ্গে নিখুঁতভাবে যুক্ত করেছে।
বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে এই রচনা সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। গোরানসনের বিশাল স্কেল এবং ব্লুজের ঐতিহ্যবাহী সুরের মিশ্রণকে সমালোচকরা চলচ্চিত্রের ভৌতিক পরিবেশের সঙ্গে সুমধুরভাবে যুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
দর্শকরা যখন ‘সিনার্স’ দেখবেন, তখন গোরানসনের সঙ্গীতের মাধ্যমে ব্লুজের গভীরতা ও আধ্যাত্মিক ভয় অনুভব করবেন। ছবির সঙ্গীতের বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্যবাহী ব্লুজের আধুনিক ব্যাখ্যা চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে, যা বিনোদন ও সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য উপহার।



