যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যান শায়ান জাহাঙ্গীর চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি২০ বিশ্বকাপের আগে ইউএসএ‑নেদারল্যান্ডস ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে মিডিয়ার সামনে আইসিসি থেকে সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) দলগুলোর তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আর্থিক সহায়তা সীমিত এবং সহযোগী জাতির মর্যাদা প্রকৃত ক্ষমতার প্রতিফলন নয়।
জাহাঙ্গীরের মতে, আইসিসি থেকে প্রাপ্ত আর্থিক ও কাঠামোগত সহায়তা অপর্যাপ্ত, ফলে দলগুলোকে যথাযথভাবে গড়ে তোলা কঠিন হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সহযোগী জাতির লেবেল থাকা সত্ত্বেও ইউএসএ একটি শক্তিশালী দল, যা বিশ্বকাপে নিজের অবস্থান প্রমাণ করেছে।
বর্তমান টি২০ বিশ্বকাপে সহযোগী দলগুলোর পারফরম্যান্সে তিনি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নেপাল প্রায়ই ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার কাছাকাছি পৌঁছেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের দলও ভারত একে 75/6 স্কোরে আটকে রেখে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। এই মুহূর্তগুলো যদি যথাযথ সমর্থন পেত, তবে বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত হতে পারত।
শায়ান জাহাঙ্গীর জোর দেন, সহযোগী দলগুলো এখনো সম্পূর্ণভাবে পোষণ করা হয়নি এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোও নেই। তবুও খেলোয়াড়রা সীমিত সম্পদের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের সম্ভাবনা প্রকাশের মূল চাবিকাঠি।
তিনি উল্লেখ করেন, যদি আইসিসি সহযোগী জাতিগুলোকে আর্থিকভাবে আরও সমর্থন করে, তবে এই দলগুলো বড় দল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও আকর্ষণীয় ম্যাচের সৃষ্টি হবে।
শায়ান জাহাঙ্গীর আরও বলেন, পূর্ণ সদস্য দেশগুলো টুর্নামেন্টের আগে একে অপরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের আয়োজন করে প্রস্তুতি নেয়, যা সহযোগী দলগুলোর জন্য এখনও অনুপলব্ধ। এই ধরনের সিরিজগুলো দলকে উচ্চ মানের মাঠে খেলা, কৌশল শাণিত করা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সহায়তা করে।
উদাহরণস্বরূপ, ভারত এ সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডকে স্বাগত জানিয়ে একটি সিরিজের আয়োজন করেছিল। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তানকে সংক্ষিপ্ত সিরিজের জন্য সফর করে, তারপর শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত হয়। এই ধরনের অভিজ্ঞতা সহযোগী দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্তুতির গুরুত্ব জোর দিয়ে তিনি বলেন, তহবিলের অভাবের কারণে সহযোগী দলগুলো বড় স্টেডিয়াম ও আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা পায় না। আইসিসি যদি এই ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে, তবে দলগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আত্মবিশ্বাসীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।
শায়ান জাহাঙ্গীরের অনুরোধ স্পষ্ট: আইসিসি থেকে আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে সহযোগী জাতিগুলোকে সমান সুযোগ প্রদান করা উচিত। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়টি আইসিসির দৃষ্টি আকর্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
যদি তহবিলের বিষয়টি সমাধান হয়, তবে সহযোগী দলগুলোকে বড় দল হিসেবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করা সম্ভব হবে এবং বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা আরও সমতাপূর্ণ হবে। জাহাঙ্গীর বিশ্বাস করেন, এই পরিবর্তন কেবল দল নয়, পুরো টি২০ ক্রিকেটের গুণগত মানকে উন্নত করবে।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দল নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে চেন্নাইতে মুখোমুখি হবে, যা শায়ান জাহাঙ্গীরের তহবিলের দাবি বাস্তবায়নের পরবর্তী পরীক্ষা হিসেবে দেখা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল সহযোগী দলগুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আইসিসির নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের দল অন্যান্য সহযোগী দল ও পূর্ণ সদস্য দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা তহবিল ও প্রস্তুতির পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে। শায়ান জাহাঙ্গীরের আহ্বান যদি সাড়া পায়, তবে এই ম্যাচগুলোতে আরও সমান প্রতিযোগিতা প্রত্যাশা করা যায়।



