ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটের অস্বাভাবিকতা নিয়ে অভিযোগ উঠার পর দেশব্যাপী ১২টি জেলায় মোট ৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকগুলো মূলত জাল ভোট, ভোটকেন্দ্রে অননুমোদিত প্রবেশ এবং নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
রাঙামাটি জেলার রাঙামাটি শহরের পুরানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী শফিউল বশরকে আটক করা হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান এই তথ্য নিশ্চিত করেন এবং রাঙামাটি পুলিশ সুপারইনস্পেক্টর মুহম্মদ আবদুর রকিব জানান, টিপুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা বিভাগের সাভার থানা, আশুলিয়া এলাকায় গত রাত্রি দুইটি ভোটকেন্দ্রে (নিউ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও নলাম ভোটকেন্দ্র) অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে ১৩ জনকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন নিশ্চিত করেন যে, আটকদের মধ্যে চারজনকে মুচলেকা (ব্রাই) নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে; তারা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে এজেন্টের কাগজ বহন করতে গিয়ে ভুলবশত প্রবেশ করেছিল বলে দাবি করেছে।
ফরিদপুর-২ নির্বাচনী এলাকায়, যৌথবাহিনী সাভার, ইউসুফদিয়া, নারানদিয়া ও জয়ঝাপ ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপি ও খেলাফত মজলিসের তিনজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মো. আমজাদ হোসেন, সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম এবং বিএনপি কর্মী মো. রবিউল।
মেহেরপুর সদর উপজেলায় ভোটের পর ফিরে আসার পথে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়। ঘটনাস্থল চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি, এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী একজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে।
নেত্রকোনা-৪ নির্বাচনী এলাকায়, মোহনগঞ্জ উপজেলায় জাল ভোটের চেষ্টা করার সময় একটি কিশোরকে আটক করা হয়েছে। আটক কিশোরটি বড়তলি-বানিয়াহারি ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রের নিকটে ধরা পড়ে।
সর্বমোট ৩৪ জনের বেশি আটক বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা—বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ এবং যৌথবাহিনী—দ্বারা নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, জাল ভোট ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া নির্বাচনের ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা বৃদ্ধি করবে। এই ঘটনাগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর ক্যাম্পেইন কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনী ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমত গঠনে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরবর্তী পর্যায়ে আটকদের তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



