সিনেমাকন ২০২৬-এ নতুন “সিনেমাকন ফিল্ম শো케স” প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এঞ্জেল স্টুডিওস, রো কে এন্টারটেইনমেন্ট এবং স্টুডিওক্যানালকে কলসিয়াম, সিজারস প্যালেসে মঞ্চ প্রদান করা হবে। এই উদ্যোগটি সিনেমা ইউনাইটেডের সিইও মাইকেল ও’লিয়ারির নেতৃত্বে গৃহীত, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে বিশ্বব্যাপী সিনেমা হলগুলো বছরে ৫২ সপ্তাহই চলচ্চিত্রের ওপর নির্ভরশীল এবং এই তিনটি কোম্পানির কাজকে আলোকিত করা শিল্পের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করবে।
সিনেমা ইউনাইটেড, যা পূর্বে ন্যাটো নামে পরিচিত ছিল, প্রতি বছর এক্সহিবিটরদের জন্য এই সমাবেশের আয়োজক। নতুন প্রোগ্রামটি পূর্বে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক দিবসের পরিবর্তে চালু করা হয়েছে; আন্তর্জাতিক দিবসটি ছিল প্রথম হলিউড স্টুডিও উপস্থাপনের আগের সোমবার সন্ধ্যায়। এখন “সিনেমাকন ফিল্ম শোকে�স” নামের এই সেশনটি বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট নির্মাতাদের মঞ্চে আনার লক্ষ্য রাখে।
স্টুডিওক্যানালের সিইও ও কানাল+এর চিফ কন্টেন্ট অফিসার অ্যানা মার্শের মতে, কলসিয়ামে তাদের স্লেট উপস্থাপন করা এবং এক্সহিবিটর কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা একটি বিশেষ মুহূর্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কোম্পানি বড় স্ক্রিনের জন্য তৈরি চলচ্চিত্রে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বজায় রাখে এবং এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সৃজনশীলতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বিনিয়োগের মূল্য তুলে ধরতে পারবে।
স্টুডিওক্যানাল ইউরোপের নয়টি প্রধান বাজারে সক্রিয়, যার মধ্যে অস্ট্রিয়া, বেনেলুক্স, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্পেন এবং যুক্তরাজ্য অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনে তাদের অফিস রয়েছে, যা তাদের বৈশ্বিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করে।
উত্তর ইউটাহে ভিত্তিক এঞ্জেল স্টুডিওস, ধর্মীয় ও অনুপ্রেরণামূলক বিষয়ের ওপর বিশেষায়িত, জুলাই ২ তারিখে প্রকাশিত একটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এই সাফল্য তাদেরকে বৃহৎ স্ক্রিনে কন্টেন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং এখন তারা কলসিয়ামে তাদের সাম্প্রতিক প্রকল্পগুলি উপস্থাপন করবে।
রো কে এন্টারটেইনমেন্টের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এই কোম্পানিটিও নতুন প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে তার কন্টেন্ট পোর্টফোলিও প্রদর্শন করবে। তিনটি ভিন্ন ধরণের কোম্পানি একসাথে মঞ্চে আসা শিল্পের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরবে এবং বিভিন্ন দর্শকের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
সিনেমাকনের এই পরিবর্তনশীল কাঠামো শিল্পের পরিবর্তনশীল গতিবিদ্যাকে প্রতিফলিত করে। বড় স্টুডিওগুলোর পাশাপাশি স্বাধীন ও মাঝারি আকারের নির্মাতাদের মঞ্চ প্রদান করে সমাবেশটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠছে। এক্সহিবিটরদের জন্য নতুন কন্টেন্টের সরাসরি পরিচিতি লাভের সুযোগ এই প্রোগ্রামকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
সিনেমা ইউনাইটেডের মাইকেল ও’লিয়ারির নেতৃত্বে এই উদ্যোগটি চলচ্চিত্র শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত। তিনি উল্লেখ করেন যে সিনেমা হলগুলো শুধুমাত্র বড় হোলিউড প্রোডাকশন নয়, বরং বিভিন্ন ধরণের চলচ্চিত্রের ওপর নির্ভরশীল, যা দর্শকদের বিভিন্ন রুচি ও চাহিদা পূরণ করে।
সিনেমাকন ২০২৬-এ এই তিনটি কোম্পানির উপস্থাপনা শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। কলসিয়ামের বিশাল মঞ্চে তাদের কাজের প্রদর্শন দর্শকদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে এবং চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
সিনেমাকনের এই নতুন সেশনটি শিল্পের বিভিন্ন স্তরের অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি সংযোগের সেতু গড়ে তুলবে, যেখানে বড় স্ক্রিনের জন্য তৈরি চলচ্চিত্র, ধর্মীয় ও অনুপ্রেরণামূলক কন্টেন্ট এবং অন্যান্য সৃজনশীল প্রকল্প একসাথে উপস্থাপিত হবে। এই সমাবেশের মাধ্যমে শিল্পের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি গঠন এবং নতুন কন্টেন্টের বাজারে প্রবেশের পথ সুগম হবে।



