ঢাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়ে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি এমন পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের গণনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা ভোটারদের প্রতি ন্যায়সঙ্গত হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, যদি জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি সব অংশীদারকে অন্তর্ভুক্ত করে কাজ করবে এবং শাসনকালে কোনো দলকে বাদ না রাখবে। তিনি সরকার গঠনের পর সকল রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভোটগ্রহণের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি জানান, ভোটদান সকাল ৭:৩০ টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪:৩০ টায় শেষ হয়। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট নেওয়া হয়েছে, তবে গণনা এখনও চলমান। ফলাফলের চূড়ান্ত প্রকাশের আগে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভোটারদের ন্যায়পরায়ণতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে, এ কথা তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থীর মৃত্যুর পর নির্বাচন কমিশন সেই আসনের ভোট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে শেরপুর-৩-এ কোনো ভোটগ্রহণ হয়নি এবং এই আসনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে।
সাংবাদিকদের প্রতি ডা. শফিকুর রহমানের আবেদন ছিল, ভুল হলেও প্রেসকে ত্রুটি দেখিয়ে সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে তাড়া না করতে। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দিয়ে বলেন, ত্রুটি প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলও ফলাফলের চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে এবং গণনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিজ নিজ অবস্থান নির্ধারণ করবে। সব দলই ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় সব অংশীদারকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত কোয়ালিশন সরকার গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ ধরনের সমন্বয়মূলক শাসনব্যবস্থা দেশের নীতি নির্ধারণে বিস্তৃত মতামতকে সমন্বিত করে আইন প্রণয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
নির্বাচন ফলাফলের চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও বাকি থাকলেও, ভোট গণনা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলাফল প্রকাশের পর জোটের মধ্যে সরকার গঠন, মন্ত্রণালয় ভাগাভাগি এবং নীতি অগ্রাধিকারের বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।



