নতুন টিএ২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ভারত এ ২০৯-৯ স্কোরে নামিবিয়া দলকে পরাজিত করে। ইশান কিশান ২৪ বলের ওপর ৬১ রান তৈরি করে দলের টপ স্কোরার ভূমিকা পালন করেন, যা টিমকে শক্তিশালী শুরুর ভিত্তি দেয়।
বাটিং প্রথমে ভারত এ দ্রুত এগিয়ে যায়, সানজু স্যামসন আট বলের মধ্যে ২২ রান গড়ে তোলার পর কিশানের বামহাতি আক্রমণ শুরুর পরেই ছয়টি ছয় এবং একটি চারের মাধ্যমে দ্রুত অর্ধশতকে পৌঁছায়।
কিশান ২০ বলের মধ্যে অর্ধশত পার করে, তার আক্রমণাত্মক শটগুলো বিশেষ করে বামহাতি পেসার জে. জে. স্মিটের ওপর চারটি ছয় এবং একটি চার দিয়ে তার অর্ধশতকে ২০ বলে সম্পন্ন করে। তার আক্রমণাত্মক মেজাজে দলটি দ্রুত ১০০ রান পঞ্চম ওভারে পৌঁছায়।
নামিবিয়ার বামহাতি স্পিনার গেরহার্ড এরাসমাস প্রথম বলেই কিশানের শটটি ভুল করে, ফলে কিশান মাঝ-উইকেটের গভীরে মিস করে এবং তার দ্রুত গতি থেমে যায়। তবে এরাসমাসের পরবর্তী ওভারগুলোতে তিনি দলকে কিছুটা স্থবির করতে সক্ষম হন।
সামসনের উজ্জ্বল সূচনা মাঝের দিকে থেমে যায়, এবং তিনি দ্রুত আউট হন। কিশানের আক্রমণ ধারাবাহিক থাকে, তবে নামিবিয়ার স্পিনারদের চাপ বাড়ে, যখন বার্নার্ড শোল্টজের বামহাতি অর্দহোডে সুর্যকুমার যাদব ১২ রানেই স্টাম্পড হন।
এরপরের ওভারে গেরহার্ড এরাসমাস আবার টিলাক ভার্মা (২৫)কে আউট করেন, যা ভারত এ-এর মাঝের অংশে একটি ছোট বিরতি সৃষ্টি করে। তবে হার্ডিক পাণ্ড্যা ২৮ বলের মধ্যে ৫২ রান নিয়ে শেষের দিকে স্কোর বাড়াতে সহায়তা করেন।
পাণ্ড্যা এবং শিবম দুবে একসাথে ৮১ রান যোগ করে পঞ্চম উইকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। দুবে ২৩ রান যোগ করে দলের মোট স্কোরকে আরও স্থিতিশীল করেন।
পাণ্ড্যা গেরহার্ড এরাসমাসের হাতে আউট হন, তবে ডিলান লেইচার নামের সাবস্টিটিউট ফিল্ডার একটি চমকপ্রদ ক্যাচ নেন। লেইচার দৌড়ে গিয়ে বলটি রোপসের বাইরে নিয়ে গিয়ে মাঠের ভিতরে পুনরায় ফেলে ক্যাচ সম্পন্ন করেন, যা দর্শকদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত তৈরি করে।
শেষের কয়েক ওভারে নামিবিয়া দলটি একাধিক উইকেট নেয়, যার ফলে ভারত এ-এর স্কোর দ্রুত স্থবির হয়। তবে ইতিমধ্যে গড়ে ২০৯ রান নিয়ে দলটি নিরাপদে জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়টি ভারত এ-কে গ্রুপ এ-তে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয়লাভের পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দেয়। পরবর্তী ম্যাচে দলটি রবিবার কোলোম্বোতে পাকিস্তান দলের মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রত্যাশিত মুখোমুখি।
পাকিস্তান সরকার সাম্প্রতিক সপ্তাহে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে টিমকে বয়কট করার আদেশ প্রত্যাহার করে, ফলে ম্যাচটি নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও, মাঠে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই মূল দৃষ্টিকোণ হবে।
সারসংক্ষেপে, ইশান কিশানের দ্রুত অর্ধশত, হার্ডিক পাণ্ড্যার স্থিতিশীলতা এবং শিবম দুবে’র সমর্থন দলকে শক্তিশালী স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে, যা নামিবিয়ার প্রতিরোধকে অতিক্রম করে ভারত এ-কে টিএ২০ বিশ্বকাপের পথে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।



