19 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
HomeরাজনীতিCRF/BEPOS জরিপে দেখা গেল আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের অর্ধেক ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকছে

CRF/BEPOS জরিপে দেখা গেল আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের অর্ধেক ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকছে

CRF/BEPOS পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার ফলে তার বিশাল ভোটব্যাংকের প্রায় অর্ধেক ভোটার এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। জরিপটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং ফলাফলগুলো সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ পূর্বে মোট ভোটের ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশ পেয়ে আসছিল, যা তাকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তবে দলটির কার্যক্রমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পর প্রায় ৪ কোটি নিবন্ধিত ভোটারকে নতুন রাজনৈতিক ঘাঁটি খুঁজতে হচ্ছে। এই ভোটারগোষ্ঠীকে কীভাবে পুনর্বিন্যাস করা হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এই ৪ কোটি ভোটারদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই এখন বিএনপির প্রতি ঝুঁকেছে। অর্থাৎ, প্রায় ২ কোটি ভোটার নতুন করে বিএনপির সমর্থনে যুক্ত হতে পারেন। এই বিশাল কাঠামোগত স্থানান্তরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিএনপির সবচেয়ে বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া, জরিপে দেখা গেছে যে পূর্বে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এখন জামায়াতকে ভোটের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন। প্রায় ত্রিশ শতাংশ ভোটারকে জামায়াতের প্রতি সমর্থন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও দলটি শীঘ্রই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং তার শীর্ষ নেতাদের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করছেন, কিছু ভোটারকে জামায়াতের প্রতি ঝুঁকতে প্রভাবিত করেছে বিএনপির আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রতি কঠোর আচরণ। তারা জামায়াতকে “কম খারাপ” বিকল্প হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, কিছু ভোটারকে শীঘ্রই শাসন পরিবর্তনের পর দেশের ধর্মীয় দিক থেকে পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা থেকে জামায়াতের সমর্থন বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রথম-পর-পর-পর (FPTP) পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, যেখানে ৩০০টি একক নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীই জয়ী হন। এই পদ্ধতি দ্বিতীয় স্থানের প্রার্থীদের কোনো সিট দেয় না এবং সমগ্র দেশে সমানভাবে ছড়িয়ে থাকা সমর্থনকে বেশি পুরস্কার দেয়।

বিএনপি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে সমর্থন পেয়েছে, যেখানে জামায়াতের সমর্থন মূলত উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্দিষ্ট ঘাঁটিতে কেন্দ্রীভূত। ফলে, ভোটের পার্থক্য ছোট হলেও সিটের পার্থক্য বড় হতে পারে।

ন্যারেটিভ জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি জাতীয় পর্যায়ে জামায়াতের ভোটশেয়ার বিএনপির তুলনায় মাত্র ৩-৫ শতাংশ কমেও থাকে, তবুও FPTP পদ্ধতির কারণে আসনের পার্থক্য ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হতে পারে। এই পার্থক্য নির্বাচনের ফলাফলকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করতে সক্ষম।

২০২৬ সালের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে, এই ভোটব্যাংক স্থানান্তর এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য একত্রে বিবেচনা করলে, বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে, জামায়াতের ঘাঁটি-ভিত্তিক সমর্থন তাকে সম্ভাব্য মিত্র বা সমর্থনকারী পার্টি হিসেবে অবস্থান করতে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য জোট গঠন বা সমঝোতা নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি জামায়াতের ভোটশেয়ার উল্লেখযোগ্য হয়। তবে ভোটারদের নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খোঁজার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী ফলাফলের অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

সারসংক্ষেপে, CRF/BEPOS জরিপের ফলাফল দেখায় যে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক ঘাঁটিতে ঝুঁকছে, যার মধ্যে বড় অংশ বিএনপির এবং উল্লেখযোগ্য অংশ জামায়াতের দিকে। এই কাঠামোগত পরিবর্তন এবং FPTP পদ্ধতির সংমিশ্রণ ২০২৬ সালের নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠন করতে পারে।

১০০/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলোডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments