ঢাকা – ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৪:৩০ টায় ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম-২০২৬ শেষ হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ভোটের সমাপ্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পুরো দেশকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি প্রেস শাখার মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ভোটারদের স্বেচ্ছা অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত সকল প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব একত্রে দেশের গণতন্ত্রের প্রতি অটুট অঙ্গীকারের প্রমাণ।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, দলগুলোর দায়িত্বশীলতা, প্রার্থীদের সংযম এবং নির্বাচনী সংস্থাগুলোর পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে যে আমরা গণতন্ত্রের পথে দৃঢ়।” তিনি এই মন্তব্যটি ভোট শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত একটি অফিসিয়াল বিবৃতিতে তুলে ধরেন, যা দেশের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ভোটিং পরিবেশের স্বীকৃতি দেয়।
বর্ণনা করা হয়েছে যে নাগরিকরা তাদের সংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস উল্লেখ করেন, “প্রত্যেক ভোটার তাদের অধিকার ব্যবহার করে দেশের দিকনির্দেশে সরাসরি অবদান রেখেছেন।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেন।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস নির্বাচনী কমিশন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসনিক কর্মী, পর্যবেক্ষক দল, মিডিয়া কর্মী এবং ভোট প্রক্রিয়ায় যুক্ত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমই এই বিশাল গণতান্ত্রিক ইভেন্টকে সফল করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই সকল সংস্থার সমন্বিত কাজই ভোটিং দিনকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, “এই বিশাল কাজটি আপনারা যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম দিয়ে সম্পন্ন করেছেন, তা ছাড়া এই নির্বাচন সম্ভব হতো না।” এই মন্তব্যে তিনি নির্বাচনী কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দেন এবং তাদের প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেন।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আহ্বান জানান, “ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পরও গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফলাফলে মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থের জন্য ঐক্য বজায় রাখা অপরিহার্য।
তিনি যোগ করেন, “মতভেদ থাকবে, তবে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে থাকতে হবে।” এই আহ্বানটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সংহতির গুরুত্বকে তুলে ধরে।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ আবার প্রমাণ করেছে যে ক্ষমতার মূল উৎস হল জনগণ।” তিনি দেশের জনগণের ভূমিকা ও ক্ষমতার উৎস হিসেবে তাদের গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা একসাথে একটি জবাবদিহি, অন্তর্ভুক্তি এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলব।” এই বক্তব্যে তিনি দেশের শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস নির্বাচনকে আনন্দ ও উদযাপনের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “এই নির্বাচন আমাদের জন্য বড় আনন্দের উৎস এবং নতুন বাংলাদেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী যাত্রার সূচনা।” তিনি নতুন সময়ের সূচনা ও দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়েছে।” ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এই মন্তব্যে নির্বাচনের শান্তি ও উদযাপনের মাত্রা তুলে ধরেন এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে গণতন্ত্রের শীর্ষে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
শেষে তিনি সকলকে আহ্বান জানান, “গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই যাত্রায় একসাথে কাজ করি।” এই সমাপনী আহ্বানটি দেশের সকল স্তরের নাগরিককে একত্রে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করে, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও মজবুত হয়।



