কিনো লরবার কোম্পানি রাফায়েল মানুয়েলের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফিলিপিনানা’ এর উত্তর আমেরিকান বিতরণ অধিকার অর্জন করেছে। এই সিদ্ধান্তটি সান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার জয় করা ছবির ইউরোপীয় প্রিমিয়ার আগে নেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্রটি এখন থেকে উত্তর আমেরিকায় থিয়েটার, ডিজিটাল ও হোম এন্টারটেইনমেন্ট প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
‘ফিলিপিনানা’ একটি ফিলিপাইনি সমাজের উচ্চবিত্ত ক্লাবের পরিবেশে গড়ে ওঠা ক্লাস স্যাটায়ার, যা ২০২১ সালের একই নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ধারাবাহিকতা। সান্ড্যান্সে সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর, ছবিটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
কিনো লরবারের করোলিনা ডুইয়ার এবং ম্যাগনিফাইয়ের অস্টিন কেনেডি এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের সমন্বয়ে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় ছবির ইউরোপীয় প্রিমিয়ার, বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে, আরও দৃঢ় ভিত্তি পেয়েছে।
বিতরণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি এই বছরের শেষের দিকে উত্তর আমেরিকান থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে, তারপরে স্ট্রিমিং ও ডিস্ক ফরম্যাটে প্রকাশের ধাপ অনুসরণ করবে। এই ধাপগুলো চলচ্চিত্রের বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীকে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে।
চীনা পরিচালক জিয়া ঝাংকে চলচ্চিত্রের এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে যুক্ত আছেন। তিনি রাফায়েল মানুয়েলের মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন এবং ছবির সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। জিয়ার অভিজ্ঞতা ও নির্দেশনা চলচ্চিত্রের শিল্পগত মানকে উঁচুতে তুলে ধরেছে।
চিত্রনাট্যটি মূলত ম্যানিলার বাইরে অবস্থিত একটি এলিট দেশীয় ক্লাবের মধ্যে ঘটছে, যেখানে তীব্র গরম ও খরার প্রভাব দৃশ্যকে তীব্র করে তুলেছে। ১৭ বছর বয়সী ইসাবেল (জরি বেল আগোতো) টি-গার্ল হিসেবে কাজ করে, ধনী ব্যবসায়ী ও বিদেশি পর্যটকদের গলফ বল স্থাপন করে। তার কাজের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি সমাজের শ্রেণীভেদ ও লিঙ্গ বৈষম্যের সূক্ষ্ম দিকগুলো তুলে ধরে।
চিত্রটি ধীরে ধীরে একটি তীব্র সমালোচনামূলক বর্ণনায় রূপান্তরিত হয়, যেখানে ইসাবেলের মতো নারীরা একটি এমন পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হয়, যা ঔপনিবেশিক বাগানের মতো শীতল নয়, বরং শোষণমূলক। এই পরিবেশকে চলচ্চিত্রটি একটি আধুনিক উপনিবেশিক কাঠামো হিসেবে চিত্রায়িত করে, যা দর্শকদের সামাজিক অসমতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে চায়।
চলচ্চিত্রের প্রধান অভিনেত্রী জরি বেল আগোতো ছাড়াও কারমেন ক্যাস্টেলানোস, তেরয় গুজমান, কার্লিটোস সিগুইয়ন-রেইনা, ইসাবেল সিকাট এবং নূর হুশম্যান্ডের মতো পরিচিত মুখগুলো উপস্থিত। এই কাস্টের সমন্বয় ছবির বাস্তবিকতা ও আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছে।
রাফায়েল মানুয়েল, যিনি আমস্টারডাম, লন্ডন ও ম্যানিলার মধ্যে বসবাস করেন, চলচ্চিত্রের লেখক, পরিচালক, প্রযোজক ও সম্পাদক হিসেবে একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রোলেক্স আর্টস ইনিশিয়েটিভের অধীনে জিয়া ঝাংকের শিষ্য ছিলেন এবং পূর্বে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার স্বল্পদৈর্ঘ্য কাজের জন্য সিলভার বেয়ার জিতেছেন। ‘ফিলিপিনানা’ যুক্তরাজ্যের ফিল্ম৪ সহ আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় তৈরি ও অর্থায়ন করা হয়েছে।
কিনো লরবারের এই অধিগ্রহণ চলচ্চিত্রের উত্তর আমেরিকান বাজারে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। থিয়েটার, স্ট্রিমিং ও হোম মিডিয়ার মাধ্যমে ছবির বিস্তৃত প্রচার পরিকল্পনা দর্শকদের ফিলিপাইনি সমাজের গোপন দিকগুলোকে জানাবে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রেমীদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবে।



