19 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাবরি যাত্রা ও মসজিদ নির্মাণের সূচনা, মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে

বাবরি যাত্রা ও মসজিদ নির্মাণের সূচনা, মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। একদিন পর, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে নদিয়া জেলার পলাশী মনুমেন্ট মোড় থেকে বাবরি যাত্রা শুরু হয়, যা রেলি‑রূপে পরিচালিত হয় এবং রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

বেলডাঙ্গায় মসজিদ নির্মাণের শুরুর অনুষ্ঠানটি স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদটি ২২ কিলোমিটার দূরে পলাশী থেকে শুরু হওয়া যাত্রার শেষ গন্তব্য হিসেবে নির্ধারিত, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

যাত্রার সূচনা পলাশী মনুমেন্টের কাছাকাছি একটি ব্যস্ত রাস্তায় হয়। হুমায়ুন কবির এবং তার অনুসারীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে দুই চাকার রেলিতে অগ্রসর হন। রেলির অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্থানীয় সমর্থক, স্বেচ্ছাসেবক এবং কিছু সাধারণ নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা রেলির গতি বজায় রাখতে সহায়তা করেন।

হুমায়ুন কবির রাইডের পেছনে নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীকে বসিয়ে গতি বজায় রাখেন, যা নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে একটি সাধারণ ব্যবস্থা। রেলির গতি বজায় রাখতে তিনি এবং তার দল রোড সাইডে গাড়ি থামিয়ে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

পলাশী থেকে রেলির প্রথম গন্তব্য মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। রেজিনগরে পৌঁছে হুমায়ুন কবির কিছু দূরত্ব পায়ে হাঁটেন, এরপর হুড খোলা গাড়িতে পরিবর্তন করে বেলডাঙ্গার দিকে অগ্রসর হন। রেলির এই অংশটি মোট ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা মূল পরিকল্পনার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রা পলাশী থেকে প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার অতিক্রম করে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারে শেষ হওয়ার কথা ছিল, যেখানে শুক্রবার রাতের মধ্যে সমাপ্তি ঘটার নির্ধারিত সময় ছিল। তবে রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সূচি ও পুলিশ অনুমোদনের ঘাটতির কারণে রুটটি সংক্ষিপ্ত করা হয় এবং শেষ গন্তব্য বেলডাঙ্গা নির্ধারিত হয়।

যাত্রার শুরুতে বিশাল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ রোড ব্লক, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলির পথে ঘনিষ্ঠ নজরদারি বজায় রাখে। রেলির সময় কিছু সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করে, যা যাত্রার জনসাধারণের সমর্থনকে প্রকাশ করে।

বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজের সূচনা এবং যাত্রা দুটোই রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘটেছে। দুই মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে এই ধরনের ধর্মীয় প্রকল্পের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যুক্তি থাকলে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে থাকা দল হুমায়ুন কবিরকে বহিষ্কারের মাধ্যমে তার কার্যক্রমকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। দলটি মসজিদ নির্মাণকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উপকরণ হিসেবে দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোও মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা প্রকাশ করেছে। তারা মসজিদকে ধর্মীয় উস্কানির উৎস হিসেবে উল্লেখ করে, যদি নির্মাণ চালু থাকে তবে তা ধ্বংস করার হুমকি জানিয়েছে। এই ধরনের বিরোধমূলক মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বাবরি যাত্রা ও মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় করার চেষ্টা স্পষ্ট, তবে একই সঙ্গে এটি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সামাজিক সংহতির প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচনের আগে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অবশেষে, মসজিদ নির্মাণের কাজের সূচনা এবং সংক্ষিপ্ত যাত্রা উভয়ই রাজ্যের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের সময় এই ধরনের ধর্মীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক কৌশলগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments