নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক নির্বাচনে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা তিনজন নাগরিক ভোটের জন্য ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। হাজি শামসুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন দুইজন দৃষ্টিহীন এবং একজন জন্মান্ধ ব্যক্তি, যারা ভোটাধিকার ব্যবহার করে নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
মো. জুয়েল, মনির হোসেন এবং মো. জসিম তিনজনই জেলায় ঘুরে হাকারি ও কথনভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা একসাথে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন এবং কোনো ধরণের বাধা ছাড়াই গণভোটে অংশগ্রহণ করেছেন। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা তাদের সহায়তা করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
জুয়েল ও মনির সিদ্ধিরগঞ্জ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন, আর জসিম ফতুল্লার মাহমুদপুরের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। যদিও তারা রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ও মানিকনগরে ভাড়া থাকলেও ভোটের জন্য নারায়ণগঞ্জে যাত্রা করেন এবং প্রায় দুইশো টাকা খরচ হয়। তবু তারা এই খরচে কোনো অনুতাপ প্রকাশ করেননি।
মনির হোসেন বলেন, “অন্য বছরের তুলনায় আজকের ভোটটা অন্য রকম। দেশের নাগরিক হিসেবে একটা ভোট দিতে আমরাও চাই। এতে অন্য রকম একটা আনন্দ লাগে।” তিনি যোগ করেন, “কেন্দ্রে এসে অনেকের সঙ্গে কথা হলো। ঈদের মতো একটা আমেজ-আনন্দ ছিল।” মানিকনগরের বাসিন্দা জুয়েলও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ভোটের জন্য বিমানবন্দর এলাকার দিকে গিয়েছিলেন। তিনি বললেন, “রাজশাহীগামী ‘সিল্ক সিটি’ ট্রেনে গ্রামমুখী মানুষের ভিড় দেখে তিনিও ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।”
জসিমের মন্তব্যে দেখা যায়, “সিট না পেয়ে অনেকে ট্রেনের ছাদেও উঠছিলেন। সবাই আনন্দ করে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। এটা দেখে আমিও বাসা থেকে ২০০ টাকা খরচ করে ভোট দিতে আসছি। শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছি, এটাই আনন্দ।” তিনি ভোটের পরে সরকারের কাছে কিছু দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা প্রতিবন্ধী মানুষ। আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে, তাদের বেতন যেন মাফ করা হয়। আমরা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্তি পেতে চাই।”
মনির হোসেন মাসে ৮৫০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পান, তবে তিনি বলেন, “এই ভাতা এক মাসের চায়ের পয়সাও না। যে সরকারই আসুক, বিষয়টা যেন বিবেচনা করে। একজন মানুষের মাসে কত টাকা প্রয়োজন, সেটা দেখে ভাতা নির্ধারণ করা উচিত।” তাদের দাবি সরকারের নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে।
এই তিনজন ভোটার শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভোটের জন্য যাত্রা, ব্যয় এবং সময়ের বাধা অতিক্রম করে নাগরিক অধিকার ব্যবহার করেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা দেশের প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।



