বিলিয়নিয়ার জিম র্যাটক্লিফ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-অধিকারী, সম্প্রতি অভিবাসী সম্পর্কে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি বিদেশি শ্রমিকদের ওপর আর্থিক সহায়তা নির্ভরতা নিয়ে সমালোচনা করে, তাদেরকে “forrins” বলে অভিহিত করেন এবং কিছু পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন যা পরবর্তীতে ভুল প্রমাণিত হয়। এই বক্তব্যের ফলে ক্লাবের ভক্ত ও জনসাধারণের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
র্যাটক্লিফের মন্তব্যে তিনি রাষ্ট্রীয় গর্বের কথা তুলে ধরেন, তবে একই সঙ্গে নিজের ট্যাক্স দায়িত্ব এড়িয়ে চলা এবং বিদেশে বাস করার বিষয়টি উপেক্ষা করেন। তার এই অবস্থানকে অনেকেই দ্বিমুখী patriotism হিসেবে চিহ্নিত করে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব র্যাটক্লিফের মন্তব্যকে আক্রমণাত্মক ও অবমাননাকর বলে সমালোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, এমন রেটোরিক্স জাতীয় ঐক্য ও বহুত্ববাদকে ক্ষুণ্ন করে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্ত গোষ্ঠী ও ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সমিতিও র্যাটক্লিফের বক্তব্যের বিরোধিতা করে। তারা দাবি করেন যে, বিদেশি খেলোয়াড় ও কর্মী ক্লাবের সাফল্যের মূল অংশ এবং তাদের অবদানের প্রশংসা করা উচিত, না যে তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা।
র্যাটক্লিফের আরেকটি সমালোচনা হল তার নিজস্ব ট্যাক্স অবস্থা। তিনি মোনাকোর একটি প্রিন্সিপালিটিতে বসবাসের কারণে যুক্তরাজ্যের ট্যাক্স থেকে মুক্তি পান, যদিও তিনি দেশের বৃহৎ শিল্প প্রকল্পে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেছেন, যেমন Ineos এবং উত্তর ইংল্যান্ডে একটি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য তহবিল। এই দ্বৈত মানদণ্ডকে অনেকেই নৈতিক অসঙ্গতি হিসেবে দেখেন।
বিপক্ষের নেতা কেয়ার স্টারমার র্যাটক্লিফের মন্তব্যকে “অবমাননাকর এবং ভুল” বলে চিহ্নিত করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বহুত্ববাদী ও সহনশীল স্বভাবকে জোর দিয়ে বলেন যে, র্যাটক্লিফের মতামত ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
ইংরেজি ফুটবলের প্রাক্তন খেলোয়াড় মাইকেল ক্যারিকও র্যাটক্লিফের অবস্থানের প্রতি সূক্ষ্ম মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দলটি আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত, তবু তার সহ-অধিকারী বিদেশি শ্রমিকদের সমালোচনা করা বিরোধপূর্ণ।
র্যাটক্লিফের দাবি যে তিনি দেশের জন্য সব কিছু করতে প্রস্তুত, তা তার ট্যাক্স এড়ানোর আচরণ ও সরকারী সহায়তা গ্রহণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই বৈপরীত্য তাকে ভক্ত ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছ থেকে আরও কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছে।
এই ঘটনায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভবিষ্যৎ নীতি ও র্যাটক্লিফের ব্যক্তিগত অবস্থান উভয়ই পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং জনমত গঠন প্রক্রিয়া এখন এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে কীভাবে সমাধান হবে তা এখনও অনিশ্চিত।



