সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ভোটের দিন এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে; ৩৫ বছর বয়সী আম্বিয়া খাতুন ভোটদান শেষে তীব্র প্রসবের অস্বস্তি অনুভব করে, পাশের বাড়িতে কন্যা সন্তানকে জন্ম দেন। মা ও নবজাতক উভয়ই সুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি রায়গঞ্জের পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেংনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ঘটেছে, যেখানে স্থানীয় ভোটারদের দীর্ঘ সময়ের জন্য লাইন গড়ে ছিল। ভোটের সময়সূচি অনুযায়ী সকালবেলা থেকেই ভোটারদের ভিড় জমে ছিল এবং কেন্দ্রে প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
আম্বিয়া ভোট দেওয়ার পর, তিনি কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে তীব্র প্রসবের ব্যথা অনুভব করেন। ব্যথা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সহায়তা চাইলেন, এবং কয়েকজন নারী ভোটার তার পাশে এসে দাঁড়ালেন। তারা দ্রুত তাকে ভোটকেন্দ্রের পাশের একটি ঘরে নিয়ে গেলেন, যেখানে তিনি নিরাপদে শয্যা পেয়ে বসে গেলেন।
প্রতিবেশী নারীরা তৎক্ষণাৎ তাকে সমর্থন জানিয়ে, শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করলেন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করা উচিত তা নির্দেশ করলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে, আম্বিয়া কন্যা সন্তানকে প্রসব করলেন। শিশুটি স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয় এবং কোনো জটিলতা দেখা যায়নি।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ময়নুল হক ঘটনাটির পরিসংখ্যান জানিয়ে বলেন, “ভোর থেকে কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন ছিল, তবে ভোটদান শেষে আম্বিয়া দ্রুতই পাশের বাড়িতে গিয়ে সন্তানকে জন্ম দেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য অবস্থার কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জরুরি চিকিৎসা সেবা না থাকলেও উপস্থিত নারীদের ত্বরিত সহায়তা শিশুর নিরাপদ জন্ম নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ভোটের মতো জনসমাগমের সময় জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। গর্ভবতী নারীর হঠাৎ প্রসবের সম্ভাবনা কম হলেও, ভোটের দিন বা অন্য কোনো জনসমাগমে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ভোটকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় মৌলিক জরুরি শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তসঞ্চালন (CPR) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক বা স্বাস্থ্য কর্মীর উপস্থিতি জরুরি।
এছাড়া, ভোটদান প্রক্রিয়ার সময় গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। যেমন, ভোটকেন্দ্রের নিকটে একটি ছোট জরুরি কক্ষ স্থাপন, যেখানে মৌলিক প্রসব সহায়তা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম উপলব্ধ থাকবে। এই ধরনের ব্যবস্থা গর্ভবতী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে।
অবশেষে, এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কার্যক্রমের সময়ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা অবহেলিত হওয়া উচিত নয়। আপনি কি আপনার ভোটকেন্দ্রের নিকটে জরুরি চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে জানেন? ভোটের দিন নিরাপদ ও স্বাস্থ্যের দিক থেকে সুরক্ষিত থাকতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ও প্রস্তুতি চাওয়া উচিৎ।



