বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে যে নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (WBPL) টি২০ প্রথম সংস্করণ ৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণা দেশের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে।
প্রতিযোগিতার প্রথম সংস্করণে তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল অংশগ্রহণ করবে, যা দেশের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি২০ টুর্নামেন্ট হবে। দলগুলোকে স্থানীয় ব্যবসা ও স্পনসরদের সমর্থন দিয়ে গঠন করা হবে এবং প্রতিটি দলই নিজস্ব হোম গ্রাউন্ডে ম্যাচ খেলবে।
এই উদ্যোগকে নারী ক্রিকেটের পেশাদার উন্নয়নের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে খেলোয়াড় ও কোচরা একটি স্থায়ী লিগের স্বপ্ন দেখছিলেন, যা খেলোয়াড়দের নিয়মিত উচ্চমানের প্রতিযোগিতা এবং আর্থিক স্বনির্ভরতা প্রদান করবে।
দলীয় ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানা টুর্নামেন্টকে দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে ধারাবাহিক টি২০ ম্যাচের অভিজ্ঞতা দলকে আসন্ন আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপের জন্য মানসিক ও কৌশলগতভাবে প্রস্তুত করবে।
আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে এই লিগের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ খেলোয়াড়রা ঘরে ঘরে উচ্চমানের ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের চাপের সঙ্গে পরিচিত হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই পদক্ষেপের পেছনে দেশের নারী ক্রিকেটের কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য স্পষ্ট ক্যারিয়ার পথ তৈরি করা রয়েছে। বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিগের মাধ্যমে ট্যালেন্ট স্কাউটিং ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামকে আরও কার্যকর করা হবে।
লিগের সময়সূচি ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হবে, যার মধ্যে মোট দশটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ম্যাচের মধ্যে বিশ্রামের দিন থাকবে, যাতে খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধার ও কৌশলগত বিশ্লেষণের সুযোগ থাকে।
এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভূমিকা স্পষ্ট, কারণ তারা লিগের সব দিক—ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন, ম্যাচ শিডিউল, নিয়মাবলী এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা—নিয়ন্ত্রণ করবে।
প্রথম সংস্করণে তিনটি দলই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করবে, যা স্থানীয় ভক্তদের অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করবে।
প্রশাসকরা আশা করছেন যে এই লিগের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটের প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও দল ও স্পনসর যুক্ত হবে।
লিগের শুরুতে মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে, যাতে ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্ট হয় এবং ম্যাচের দর্শকসংখ্যা বাড়ে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই উদ্যোগকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে, এবং এটি দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।



