ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় কংশেরকূল উচ্চ বিদ্যালয় ও বিরুনীয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোটের প্রতিবন্ধকতা না দেওয়ার অভিযোগে এক সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং দুইজন পোলিং অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ঘটেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিষয়টি তদন্তে লিপ্ত হয়েছে।
কংশেরকূল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ভোটের সময় কিছু ভোটারকে সরাসরি ভোট দিতে দেখা গিয়েছে, যা নির্বাচন আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। এই ঘটনার পর্যালোচনায় স্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফিরোজ হোসেন সিদ্ধান্ত নেন যে দায়িত্বে থাকা এক সহকারী প্রিজাইডিং ও দুই পোলিং অফিসারকে পদ থেকে অপসারণ করা হবে।
ফিরোজ হোসেনের মতে, প্রকাশ্যে ভোটে বাধা না দেওয়া একটি গুরুতর লঙ্ঘন এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের লঙ্ঘন ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিরুনীয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে তদন্তে দেখা যায়, প্রতিটি ভোটিং বুথে কিছু যুবক এজেন্টের ভূমিকায় বসে ছিলেন, তবে তাদের পরিচয়পত্রে নাম বা কোন প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা নেই। কেবল প্রিজাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরই উপস্থিত ছিল, যা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মাদ্রাসা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, তিনি তখন কিছুটা অসুস্থ বোধ করছিলেন এবং তাই এজেন্টদের উপস্থিতি লক্ষ্য করতে পারেননি। তার এই স্বীকারোক্তি পরবর্তীতে কেন্দ্রে উপস্থিত কর্মকর্তাদের দ্বারা যাচাই করা হয়।
পরিস্থিতি স্পষ্ট করার জন্য মুজিবুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এজেন্টদেরকে তাদের প্রতীকের নাম লিখতে অনুরোধ করেন। এ সময় কিছু এজেন্টের দাবি ছিল, তারা ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থক এবং অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের সরিয়ে নিজেদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।
ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকদের এই দাবি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তেজিত করেছে। এদিকে, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, বহু কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের সরিয়ে ধানের শীষের সমর্থকরা এই কাজটি করছেন এবং এটি একটি ‘প্রহসনের নির্বাচন’।
উল্লেখযোগ্য যে, বিরুনীয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ঘটনার পর আরও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাসনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, ভবিষ্যতে এমন লঙ্ঘন রোধে ভোটিং সাইটে কঠোর তদারকি বজায় রাখা হবে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ধানের শীষের সমর্থকরা যদি সত্যিই অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের সরিয়ে নিজেদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে, তবে তা নির্বাচনী ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করবে। অন্যদিকে, মোর্শেদ আলমের মন্তব্য নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমতকে আরও সতর্ক করেছে।
বৈধ ভোটদান প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার উভয়ই এখন থেকে ভোট কেন্দ্রের তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। তারা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তাৎক্ষণিক শাস্তি আরোপ করা হবে।
এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে নেওয়া হয়েছে এবং দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত, স্থানীয় প্রশাসন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা একত্রে কাজ করে নিশ্চিত করবেন যে, ভোটদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন হবে।



